মঙ্গলবার , ডিসেম্বর ১১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

মন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের কৌশল শেখায় মার্শাল আর্ট

শোয়েব হোসেন.

মার্শাল আর্ট। লড়াই বা যুদ্ধের কৌশল। মার্শাল আর্ট শব্দটা শুনার পর স্বাভাবিক ভাবেই আপনার মনে ভাবনা আসতে পারে, আমিতো লড়াই পছন্দ করিনা; আমার সন্তান লড়াই বা মারামারি করুক তা আমি কখনই চাইনা। তাই শিশুদের মার্শাল আর্ট শেখানোর কোন প্রয়োজন নেই। মার্শাল আর্ট নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের ভাবনাটা এমনই। কেউ কেউ আবার আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে মার্শাল আর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা ভাবেন। বাংলাদেশে যারা মার্শাল আর্ট অনুশীলন করছে তাদের বেশিরভাগই আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবেই মার্শাল আর্ট চর্চা করছেন।

যুদ্ধ কৌশল বলুন আর আত্মরক্ষার কৌশলই বলুন মার্শাল আর্ট আসলে কি শেখায়? আপনারা যা ভাবছেন উত্তরটা আসলে তাই। মার্শাল আর্ট যেমন যুদ্ধ করতে শেখায় তেমনি আত্মরক্ষাও শেখায়। কিন্তু এই যুদ্ধটা কি? এটা কি কোন সাধারণ যুদ্ধ? বর্তমান হাইটেক যুগে খালি হাতে যুদ্ধ কৌশল শেখার কোন মানে আছে? অনেকেই তাই মার্শাল আর্ট শেখাকে শুধুশুধু সময় নষ্ট করা ভাবেন। আচ্ছা এবার আপনি বলুনতো, আপনার কোন বন্ধু কিংবা আত্মীয় কি মাদকাসক্ত? আপনার চারপাশে চেনা-জানা অনেকেই মাদকাসক্ত। বর্তমান যুগে মাদক খুবই সহজলভ্য। যে কোন সময় আপনার বা আপনার সন্তানের ওপর পড়তে পারে মাদকের ভয়াল থাবা। তাই আপনাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। আর এই যুদ্ধটা জয় করতে সবচেয়ে ভালো এবং কার্যকারী কৌশল মার্শাল আর্ট। আপনার অজান্তেই আপনার সন্তান হয়ে উঠতে পারে ইভটিজার অথবা জড়িয়ে পড়তে পারে কোন অপরাধ মূলক কাজে। কারণ আপনার সন্তানের মন্দ বা খারাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের কৌশল জানা নেই। মার্শাল আর্ট আসলে মন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।

আপনি আবার ভাবতে পারেন মার্শাল আর্টের সাথে এসবের সম্পর্ক কি? মার্শাল আর্ট কিভাবেই বা মানুষকে মাদকসহ সকল মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে? এবার আসুন আপনার এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। মার্শার আর্ট একটি উচ্চমাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম। মার্শাল আর্ট চর্চা করলে শরীরের প্রায় সব মাংসপেশির ব্যবহার হয়। ফলে মাংসপেশির নমনীয়তা বৃদ্ধির পাশাপশি দেহের ভারসাম্য ও শক্তি বাড়ে। নিয়মিত মার্শাল আর্ট চর্চায় বিভিন্ন ধরনের ব্যাথা ও হাড়ের জোড়া বা সন্ধির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। মার্শাল আর্ট চর্চার ফলে প্রশ্বাসের সাথে টেনে নেওয়া অক্সিজেন ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক ঘন্টার মার্শাল আট চর্চায় প্রায় ৫০০ ক্যালরি ক্ষয় হয়। ফলে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত মার্শাল আর্ট চর্চা করলে মস্তিস্কের ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রক এলাকার ওপর প্রভাব পড়ে। তখন অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, মার্শাল আর্ট অনুশীলনকারীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ করতে সক্ষম হয়ে ওঠেন। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। যেকোন পরিস্থিতিতে যেকোন সমস্যা সামলে নেওয়ার মতো সাহস যোগায়। নিয়মিত মার্শাল আর্ট চর্চা করলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিক, গ্যাট্রিক থেকে আপনি রক্ষা পাবেন। নিয়মিত মার্শাল আর্ট চর্চায় আপনার দেহ, মন-মতিষ্ক সুস্থ্য থাকবে। শারীরিক এবং মানসিকভাবে একজন সুস্থ্য মানুষ খুব সহজেই নিজেকে সকল মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে। আসলে  মার্শাল আর্ট বাইরের শত্রুর পাশাপাশি নিজের ভেতরের শত্রুর সাথেও লড়াইয়ের কৌশল শেখায়। মানুষের আগ্রাসী মনোবৃত্তি ও হিংস্রতাকে দমন করে। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সব বয়সের মানুষের মার্শাল আর্ট শেখা জরুরী। মার্শাল আর্ট অনুশীলন করলে বিভিন্ন রোগ মোকাবেলার পাশাপাশি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন যে কোন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা থেকেও। আর হ্যা মার্শাল আর্ট কিন্তু বিশ্ব স্বীকৃত একটি খেলা। আপনি ভালো মার্শাল আর্টিষ্ট হলে কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার গড়ারও সুযোগ পাবেন। তাই আসুন নিয়মিত মার্শাল আর্ট অনুশীলন করে একটি সুস্থ্য দেশ গড়ি।