রবিবার , অক্টোবর ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

হ্যান্ডওয়াশ ক্ষতি করছে না তো?


জীবনধারা ডেস্ক

জীবাণু দূর করতে সাবানেই সবার ভরসা। খাবার পরে লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহারেই শতভাগ নিশ্চিন্ত থাকেন অনেকে। আসলে সঠিক মানের হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেটা কি যাচাই করা হয়? বাজারে সচরাচর যে সব হ্যান্ডওয়াশ পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগেরই গুণগত মান সঠিক নয়। আর হ্যান্ডওয়াশ যদি সঠিক মানের না হয় তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সুস্বাস্থ্যের জন্য যার ওপরে নির্ভর করছেন সেই আসলে শরীরের ক্ষতি করছে না তো!

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক পণ্যেই এমন উপাদান থাকে যা শরীরকে ব্যাক্টেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করার বদলে উল্টো ক্ষতি করে। এ জন্য মার্কিন সরকার ২০০০টিরও বেশি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

হ্যান্ডওয়াশের দুটি উপাদান শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর। ট্রাইক্লোসান ও ট্রাইক্লোকার্বন নামের এই দুই উপাদানের উপস্থিতি ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে পারলেও শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। বিভিন্ন গবেষণা বলা হয়, এই রাসায়নিক শরীরে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজনন ক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

শুধু হ্যান্ডওয়াশ নয় এই ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদান সাবান, টুথপেস্ট, মাউথ ওয়াশ ও ডিটারজেন্টের মধ্যেও থাকতে পারে। সাধারণ ভাবে জীবাণুনাশকের পরিমাণ ০.৩ শতাশের বেশি হলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনও (ডব্লিউএইচও) এর পরামর্শ হলো, হাত যদি সত্যিই খুব ময়লা থাকে তাহলে খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া উচিত। তবে জীবাণুমুক্ত হতে চাইলে অ্যালকোহল দিয়ে তৈরি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। এগুলো জীবাণু মারে, কিন্তু শরীরের অন্য কোনো ক্ষতি করে না।

কাজেই বাজারে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে যে সব হ্যান্ডওয়াশ বিক্রি করা হয় তাতে কী কী উপাদান রয়েছে তা ভালোভাবে জেনে তবেই ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহারের ফলে এমন জীবাণু জন্ম নিতে পারে যা কোনও ঔষধেই মরে না।

সূত্রঃ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম