বুধবার , নভেম্বর ১৪, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

দায়বদ্ধতাহীন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে: বার্মা হিউম্যান রাইটস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যথাযথ সরকারি নজরদারি না থাকলে এটি ফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সরকার দায়বদ্ধ না থাকলে নিধনযজ্ঞ চালানো ব্যক্তিরা আবারও হত্যাযজ্ঞ শুরু করতে পারে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের বাঙালি মুসলিম আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। তবে এবারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার একপর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জানুয়ারিতে সম্পন্ন হওয়া মিয়ানমার-বাংলাদেশ চুক্তির আওতায় এখনও একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ঢাকা-নেপিদো চুক্তি সম্পন্ন হলেও নানা অজুহাতে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে প্রত্যাবাসনের গতি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে।

বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সমন্বয়ে করা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে তারা বলে, ‘এমন প্রত্যবাসনের যারা স্বাক্ষী তারাও বারবার ভয়াবহ নিপীড়নের অভিজ্ঞতার কথা বলে আসছেন।’

গত মাসেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গার পাঠানো একটি তালিকা থেকে মাত্র ১১০১জনকে নির্বাচন করেছে মিয়ানমার। মানবাধিকার সংস্খটির নির্বাহী পরিচালক কিয়াও ‍উইন জানান, অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখা দরকার। তিনি বলেন, বিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, সরকার দায়বদ্ধ না থাকলে অপরাধীরা আবারও নিপীড়ন শুরু করবে। তাই প্রত্যাবাসনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

উইন বলেন, এমন হত্যাযজ্ঞের শিকারদে আবারও যথাযথ বিষয় না মেনে পাঠিয়ে দেওয়া খুবই অযৌক্তিক ও অবিবেচকের মতো হবে। সংস্থাটি জানায়, এখন যেকোনও পদক্ষেপেই নির্দিষ্ট কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তারা আহ্বান জানায যেন সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে  জাতিসংঘ যেন পদক্ষেপ নেয়।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন