বুধবার , নভেম্বর ১৪, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ঈদ ‘ইত্যাদি’ প্রসঙ্গে যা বললেন বিদেশিরা

বিনোদন ডেস্ক

নন্দিত নির্মাতা-উপস্থাপক হানিফ সংকেতের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ প্রায় দুই যুগ ধরে বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে দেশের লোকজ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নিয়মিতভাবে তুলে ধরছে।
শুরুর দিকে বিষয়টি ১০/১২ জন বিদেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে কখনও কখনও শতকের ঘরেও পৌঁছে। এই বিদেশিদের দিয়ে তাদের মাতৃভাষার বদলে বাংলা ভাষায় গ্রামের সহজ সরল মানুষের চরিত্রে অভিনয় করিয়ে তুলে ধরা হয় দেশের লোকজ সংস্কৃতি। ইত্যাদি’র চরিত্রানুযায়ী বিদেশিদের দিয়ে করানো নানান ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে চমৎকার একটি মেসেজের মাধ্যমে। বিদেশিরা মনে করেন এটি তাদের জীবনে একটি নতুন অভিজ্ঞতা এবং আনন্দ। পাশাপাশি একটি শিক্ষণীয় বিষয় উপস্থাপন।
প্রতিবছর দর্শকরা যেমন এই পর্বটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন, তেমনি ঢাকায় বসবাসরত বিদেশিরাও অপেক্ষা করতে থাকেন কখন তাদের ডাক পড়বে ‘ইত্যাদি’ থেকে।


সেই ধারাবাহিকতায় ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন পৃথিবীর নানান দেশের প্রায় ৫০ জন বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে নৃত্যে অংশগ্রহণ করেছেন ২৫ জন এবং বাকিরা অভিনয়ে। এবারের বিষয় ‘পারিবারিক শান্তি’।
হানিফ সংকেতের নির্দেশনায় অল্প ক’দিনের মহড়ায় বাংলায় বিভিন্ন সংলাপ আয়ত্ত করে এই বিদেশিরা এবারও চমৎকার অভিনয় করেছেন।
হানিফ সংকেত বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে কয়েকদিনের মেলামেশায় বিদেশিদের সাথে যে আত্মিক বন্ধন হয় তা কখনোই ভোলার নয়।’
পর্তুগালের নাগরিক জন ভ্যান রিজন বলেন, ‘ইত্যাদির শুটিংয়ে এসে মনে হয় পিকনিকে এসেছি। ভালো লাগে হানিফ সংকেতের সমাজ সচেতনতামূলক কাজ।’ ডাচ নাগরিক ইরিন বলেন, ‘আমি অনেকের কাছে ইত্যাদির গল্প শুনেছি এবং এখানে না এলে আমি অনেক কিছু মিস করতাম। শুটিংয়ের পুরো দিনটাই আনন্দে কেটেছে।’


ব্রিটিশ নাগরিক ক্রেইগ বলেন, ‘ইত্যাদি টিম খুবই ভালো, অর্গানাইজড। আমি ইত্যাদিকে ভালোবাসি। এই নিয়ে তিনবার অংশ নিলাম।’
আমেরিকান নাগরিক স্কট বলেন, ‘সুযোগ হলে আগামী বছরও ইত্যাদি’তে অংশ নেওয়ার জন্যই বাংলাদেশে আসবো।’ স্পেনের নাগরিক রোসা বোরাজো বলেন, ‘অনেক গরম তারপরও ইত্যাদি’র কাজ করতে কোনও ক্লান্তি আসে না।’ ইংল্যান্ডের নাগরিক ক্যাথরিন ডিকসন বলেন, ‘হানিফ সংকেতের সাথে কাজ করলে বোঝা যায়- যে কোনওদিন অভিনয় করেনি, তাকেও শিল্পী বানানো সম্ভব। তার প্রমাণ আমরা।’
বিদেশিদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে হানিফ সংকেত বলেন, ‘এরা অপেশাদার তবে অনেক পেশাদার শিল্পীরও এদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে ওদের সময়জ্ঞান, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ। যেহেতু দর্শকরা এই পর্বটি অনেক পছন্দ করেন, তাই আমরাও অনেক যত্ন নিয়ে এই পর্বটি করতে চেষ্টা করি। আশাকরি প্রতিবারের মতো এবারও এই পর্বটি দর্শকদের অনেক আনন্দ দেবে।’
‘ইত্যাদি’ প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত ১০টার ইংরেজি সংবাদের পর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে। হানিফ সংকেতের রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ‘ইত্যাদি’ নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন, স্পন্সর করেছে কেয়া কস্মেটিকস্ লিমিটেড।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন