সোমবার , ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ঈদের আগে খালেদার মুক্তি আটকে গেল

নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লার দুটি মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিনের যে আদেশ হাই কোর্ট দিয়েছিল, তাতে স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ফলে ঈদের আগে তার মুক্তি মিলছে না।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ ২৪ জুন পর্যন্ত বহাল রেখেছে।

উচ্চ আদালতে ছুটির আগে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কার্যদিবস; ছুটি শেষে ২৪ জুন আদালত খুলবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর হবে ১৬ জুন।

আপিল বিভাগ আদালত খোলার পর প্রথম দিন ২৪ জুন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করতে বলেছে।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের রায়ের পর চার মাস ধরে বন্দি খালেদা জিয়া ওই মামলায় আপিল করে জামিন পাওয়ার পর ঈদের আগেই তার মুক্তির আশা করেছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু কুমিল্লার নাশকতার দুটিসহ কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সেই পথ খুলতে মামলাগুলোতে হাই কোর্টে জামিন চেয়েছিলেন খালেদার আইনজীবীরা।

গত ২৮ মে হাই কোর্ট কুমিল্লার মামলা দুটিতে খালেদাকে জামিন দিলে ঈদের আগে দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তিতে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গিয়ে পরদিনই হাই কোর্টের আদেশের উপর চেম্বার বিচারপতির স্থগিতাদেশ আনেন। চেম্বার বিচারপতি জামিনের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করে দিয়ে তা পাঠান নিয়মিত বেঞ্চে।

প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন নিয়মিত আপিল বেঞ্চ চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখায় খালেদার মুক্তির পথ আপাতত খুলছে না।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, সরকারই ‘ষড়যন্ত্র’ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে রেখেছেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিষয় এবং তার উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতির আদেশের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে। সরকার চায় বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, কারাগারে রেখে তারা নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করবে।”

তার বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর। আদালত জামিন দিচ্ছে, আবার জামিন স্থগিতও করছে।”

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার হত্যা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছিলেন।

হত্যা মামলাটি অবরোধের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন।

কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে।

অবরোধের মধ্যে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিনই চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়।

২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তাতে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।

কুমিল্লার এ দুটি মামলায়ই বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুটির সঙ্গে নড়াইলের একটিসহ তিনটি মামলায় জামিন চেয়ে গত ২০ মে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন খালেদা।

নড়াইলের আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার অভিযোগে।

নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে জাতির মানহানি করা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালে করা দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে আদেশ হওয়ার কথা।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. সহিদুল করিমের বেঞ্চে রয়েছে আবেদন দুটি।

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডাদেশ পাওয়া খালেদা ওই মামলাটি বাদে মোট পাঁচটি মামলায় হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন।

কুমিল্লার মামলা দুটিতে জামিন দিলেও নড়াইলের মামলাটিতে বিচারিক আদালতে গিয়ে তাকে জামিন চাইতে বলেছিল বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

error: Content is protected !!