সোমবার , জুন ২৫, ২০১৮

বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলিতে রাজধানীসহ সারাদেশে নিহত ১৩


নিউজ ডেস্ক

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধ, গোলাগুলি ও গণপিটুনিতে সোমবার রাতে রাজধানীসহ সারাদেশে ১৩ জন নিহত হয়েছে। এরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বা মদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকা: রাজধানীর দক্ষিণখানের আসিয়ান সিটিতে থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সুমন ওরফে খুকু সুমন (৩১) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নুর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসিয়ান সিটি এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এরপর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে খুকু সুমনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত খুকু সুমন রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। সে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিল।

যশোর: যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলিতে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলো, মানিক ও আছির। সোমবার (২৮ মে) রাত ৩টার পর চাঁচড়া রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া যশোর-মাগুরা মহাসড়কের নোঙরপুর বাজারের কাছে ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে বুলি নামে আরও এক ব্যক্তি (৪০) নিহত হয়েছে। ডাকাত বাহিনীর প্রধান বুলির বিরুদ্ধে থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই  মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁচড়া এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে বলে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হাজির হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দু’টি মরদেহ মেলে।’

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে দু’টি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা এবং দুই প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় সে মারা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আনিসুর রহমান শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং কলারোয়ার ইয়াবা সম্রাট হিসেবেও পরিচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, দেয়াড়া ইউনিয়নের পিলাপোলের  মাঠে মাদক চোরাকারবারিদের দু’টি গ্রুপ মাদক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে এমন খবর পেয়ে সোমবার রাতে সেখানে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনিসুরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলায় ১০টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানশুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শেহালা মাঠে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়েছেন। তারা হলো, মুকাদ্দেস আলী (৪২) ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল (৪৮)।নিহত দুইজনই মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা মাঠে এ এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজগর আলী জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা মাঠে মাদক ক্রয়-বিক্রয় করছে- এমন গোপন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের টহল দল রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে দু’জন মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগজিন ও ২৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। নিহত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের আটটি করে মামলা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলিতে জনি মিয়া (৩০) নামে একজন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৩টার দিকে আখাউড়া পৌর এলাকার রেলওয়ে কলোনির পূর্ব পাশের খালাজোড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পাইপ গানসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জনি মিয়ার বিরুদ্ধে আখাউড়াসহ বিভিন্ন থানায়  ডাকাতি, চোরাচালান ও মাদকসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার জানান, রাত ৩টার দিকে খালাজোড়া এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় পুলিশ। এসময় আখাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ও হাদিস উদ্দিন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা সেখান থেকে জনি মিয়ার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, একটি কার্তুজ,দুইটি বড় ছোরা,একটি চাপাতি উদ্ধার করে।

কুমিল্লা: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তারা হলো, লিটন ওরফে কানা লিটন (৪৩) ও বাতেন (৩৪)। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গুঞ্জর এলাকায় গোমতী প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশে ভাই ভাই ব্রিক ফিল্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুর আলম এ খবর জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও ৪০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

ওসি একেএম মঞ্জুর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তিনিসহ পুলিশের একটি দল গোমতী বাঁধের পাশে অবস্থান নেয়। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী কানা লিটন ও বাতেনসহ তাদের সহযোগীরা পৌঁছালে তাদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালায়। এতে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এসময় লিটন ও বাতেন গুলিবিদ্ধ হয়। উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল  কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হারুন (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার ভোররাতে উপজেলার শীতলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলার শীতলপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে হারুন (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, হারুনের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়ে চারজন নিহত হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ভালুকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিজান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ২টা ১০ মিনিটে ভালুকার পাড়াগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের দুই সদস্যও আহত হন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান এ খবর নিশ্চিত করেন।

পুলিশের দাবি,মিজান মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতির ৯টি মামলা রয়েছে।

ওসি আশিকুর রহমান জানান, সোমবার রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মিজান নিহত হয়। এসময় ভালুকা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আবুল কালাম ও এএসআই শাহআলম আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, তিনটি গুলির খোসা, একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

বরগুনা: বরগুনার বেতাগী উপজেলায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ফিরোজ নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মামুনুর রশিদ এ তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর একটি দল বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এসময় ফিরোজ ও তার সহযোগীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালালে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে ফিরোজের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি, একটি শুটারগান, বন্দুকের তিনটি গুলি ২৫০টি ইয়াবা ও ৯০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন