বুধবার , আগস্ট ১৫, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

তুলসীপুর ডিগ্রী কলেজে কৃষি ও আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার নাম করে লাখ টাকার বানিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ করসপনডেন্ট
চলতি এইচ.এস.সি পরীক্ষায় (চুতর্থ সাবজেক্ট) ব্যবহারিক কৃষি শিক্ষা ও আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষকের হাতে থাকা ২০নাম্বারের মার্ক দেওয়ার নাম করে জোর পূর্বক শিক্ষার্থীদের কাছে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের তুলসীপুর ডিগ্রী কলেজের কৃষি শিক্ষার শিক্ষক মোখলেছুর রহমান রাজু ও আইসিটির শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের উপর। সরেজমিন খোজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি শিক্ষার শিক্ষক মোখলেছুর রহমান রাজু ও আইসিটির শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম লিচু নিদের্শ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই দুই শিক্ষক প্রতি শিক্ষার্থী ব্যবহারিক কৃষি শিক্ষা ৫০০টাকা ও আইসিটি প্রতি শিক্ষার্থী ৩০০ করে টাকা নেওয়ার কথা জানান সাংবাদিকদের শিক্ষার্থী মনিরুজামান, নাসিমা,মোস্তফা, লিটন মিয়া,সজিব ফারুক,জাহাঙ্গীর,জাকির,মীম,ফেনসি,শিখা সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান , শিক্ষক মোখলেছুর রহমান রাজু ও রফিকুল ইসলাম তাদের নির্ধারিত টাকা না দিলে তাদের হাতে থাকা ২০নাম্বার না দেওয়ার হুমকী ও সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর ব্যাপক রাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাই শিক্ষার্থী’রা বাধ্য হয়ে বাবা-মার কাছে থেকে টাকা এনে ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা পরিশোধ করেছে। কৃষি শিক্ষার শিক্ষক মোখলেছুর রহমান রাজু সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য না,তবে আমার কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক (কলেজ স্টাফ) আমার বিরোধিতা করে বাড়তি টাকা নেওয়ার খবর বাইরে ছড়িয়েছে। সাংবাদিকদের সংগ্রহ কৃত বিছু প্রমাণ শিক্ষক মোখলেছুর রাজুর নজরে আনলে তিনি মূহুতেই তার কথা ও আচরন পরিবর্তন করে নিজেকে এক সময়ের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিউজ প্রকাশের বিরত থাকার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিকাশ নাম্বার ও পরবর্তী সময়ে দেখা করার কথা বলেন এমনকি কলেজ চত্বর ছেড়ে তার মনোনীত জায়গায় দেখা করার কথা বলেন তার প্রেরিত প্রতিনিধির সাথে। অন্যদিকে আইসিটির শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন আমার কোন বেতন হচ্ছে না আমি মানবেতর জীবন যাপন করছি তাই আমি অধ্যক্ষ স্যারের সাথে কথা বলে আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা নিয়েছি।
অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম লিচু অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমি ও আমার কলেজের পরিচালনা পরিষদ বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতি শিক্ষার্থী ২০০টাকা কওে নেওয়ার নিদের্শ হয়েছে। কিন্তু ওই শিক্ষক আমাদের অমান্য করে নিয়ম বর্হিভূত এ কাজ করেছে। শ্রীঘ্রই বিষয়টি আমাদের কলেজের সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ্র এর সাথে কথা বলে তাদেও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান,প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুলসীপুর ডিগ্রী কলেজ হওয়ায় আমরা সারা বছর বিনা বেতনে লেখাপড়া করায়। আর ওই দুই শিক্ষক ২১৮জন শিক্ষার্থী কৃষি ও আইসিটি ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর কাছে থেকে যথাক্রমে ৫০০ ও ৩০০টাকা করে নেওয়া কোন ভাবেই কাম্য না। কলেজের সভাপতি বিজন কুমার চন্দ্রের মুঠো ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইডে চলতি বছরের পরীক্ষায় প্রতি সাবজেক্ট বোর্ড ফি বাবদ ৫০ টাকা নির্ধারন করেছে।