বুধবার , আগস্ট ১৫, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

জামালপুরে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস পালিত


এম আলমগীর, স্টাফ করসপনডেন্ট
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যন্য সাধারণ একদিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে জামালপুরে মুজিব নগর দিবস পালিত হয়।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় ৪ নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এর মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধ্যা নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় জামালপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সন্ধ্যার পর শহরের প্রতিটি মোড়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে প্রমাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বকুলতলাস্থ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ জামালপুর জেলা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ তানভীর আহাম্মেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান জনির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন ছানু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, সদর পূর্ব স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান লিপু, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা চৌধুরী, শহর যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী সায়মা হামজা সিমি, শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো: জুয়েল মিয়া, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন সাগর ও তারিফ হোসেন বাবু প্রমুখ। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর তিন সপ্তাহ পর বৈদ্যনাথতলা নামে পরিচিত ওই বিশাল আমবাগান এলাকাকেই পরে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল। বাংলাদেশকে পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। একাত্তরের ১৭ এপ্রিলের সেই মাহিন্দ্রক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়।