রবিবার , এপ্রিল ২২, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে বর্ষবরণ

নিউজ ডেস্ক

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ।

বাগেরহাট: বাগেরহাটে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪২৫ বরণ করে নিয়েছে বাগেরহাটবাসী। এ উপলক্ষে শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়।

এর আগে স্টেডিয়ামে বেলুন এবং কবুতর উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসন।

শোভাযাত্রায় বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মীর শওকাত আলী বাদশা, জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেয়।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। আবহমান বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধারণ করে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে সবাই।

সকাল পৌনে ৭টায় এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাংলার কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, ফুল, পাখি, প্রজাপতির মুখোশ পরে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নানা সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে, সকাল থেকেই জমে উঠেছে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী মেলা।

নরসিংদী: নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নরসিংদীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা ভোজ, গ্রামীন খেলাধুলা, ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা।

বাঙালিয়ানার সর্বজনীন উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ পালন উপলক্ষে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঝিনাইদহ: চারদিকে লাল-সাদা পোশাকের সমাহার। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী-পেশা, বয়স নির্বিশেষে সব মানুষ শামিল হয়েছেন বৈশাখী উৎসবে। ভেদাভেদ ভুলে ঝিনাইদহবাসী বাংলা ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিয়েছে।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়।

মাগুরা: বাংলা নববষের্র প্রথমদিন পহেলা বৈশাখে শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ শেষে নোমানী ময়দানে এসে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ।

নেত্রকোনা: সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের মোক্তারপাড়া মসজিদ কোয়াটার এলাকা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই এলাকার মুক্তমনা মঞ্চের সামনে গিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেন- জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঈনউল ইসলাম, পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, ভিপি লিটন প্রমুখ।

এছাড়াও জেলা শহরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।
এদিকে বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিভিন্নস্থানে বৈশাখী গ্রামীণ মেলা শুরু হয়েছে।

চাঁদপুর: পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজন করা হয় বর্ষবরণে সংগীতানুষ্ঠান। এ সময় অতিথিদের দই, চিড়া ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

পরে সকাল ৯টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মূল আয়োজনস্থলে গিয়ে শেষ হয়।

মৌলভীবাজার: বিগত বছরের সকল গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে নানা আয়োজনে মৌলভীবাজারে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ।

বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ মেতে উঠেছে।

জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, মৌলভীবাজার পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনটি উদযাপন করছে।

অপরদিকে  পৌরসভা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে  আবহমান বাংলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করছে শিশু-কিশোর ও বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা।

এছাড়াও জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা উপজেলায়ও নববর্ষ বরণ করে নিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৬টায় স্থানীয় লেকের পাড়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে বাংলা নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হয়।

পরে সেখান থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। এর আগে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খণ্ড খণ্ড শোভাযাত্রা নিয়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রায় মিলিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে চলে পান্তা ইলিশের অনুষ্ঠান।

বরগুনা: ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ স্বাগত ১৪২৫। গানে গানে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বরগুনায় শুরু হয় বাংলা নববর্ষের আয়োজন। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিমুলতলা মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে শিমুলতলা চত্বরে পাচঁ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু।

লালমনিহাট: এসো হে বৈশাখ, এসো এসো-এ গানের সুরে মেতে উঠেছে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটবাসী।

শনিবার সকাল ১০টায় লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন।

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী’র নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ মাঠে বৈশাখী মেলায় গিয়ে মিলিত হয়।

মাদারীপুর: প্রথম প্রহরে মাদারীপুর শহরের লেকের পাড়ে গানে গানে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে।

এরপর লেকপাড়ের ‘স্বাধীনতা অঙ্গন’ থেকে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ৠালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

দিনটিকে ঘিরে লেকেরপাড় স্বাধীনতা অঙ্গনে আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলা। মেলায় থাকছে পুতুল নাচ, নাগর দোলা, নৌকা বাইচ ও ষাঁড়ের লড়াই। পাশাপাশি মেলায় পাওয়া যাবে হরেক রকমের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

এ দিনে ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাবের নতুন খাতা খুলেন আর সারাদিনই চলতে থাকে হালখাতার আমেজ।

জয়পুরহাট: পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে জয়পুরহাট শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান রাস্তা হয়ে জেলা প্রশাসন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে।

এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় স্থানীয় নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়াম থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা নিয়াজ শিশু পার্কে শেষ হয়।

এছাড়াও গাইবান্ধা, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, রাঙামাটি, নোয়াখালী, মুন্সীগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়।

সূত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম