বুধবার , ডিসেম্বর ১২, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ইসলামপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরে ফসলের সমাহার


লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলামপুর
জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্র নদীর চরে এখন ফসলের সমারোহ। চরাঞ্চলের মাটিতে গড়ে উঠছে নানা ফসল। চলতি মৌসুমে যমুনা নদীর উজানে মন্নিয়াচর থেকে চরনন্দনের পাড়া এবং ব্রহ্মপুত্র নদের বেনুয়ারচর, ডিগ্রীরচর, গাইবান্ধা, গোয়ালেরচর, পলবান্ধাসহ বিস্তীর্ন চরে এবার সরিষা, টমেটো, ভুট্টা, মাসকলাই, ধনে, সবজি, পেয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ চাষ হয়েছে। এতে বানভাসী ও নদী ভাঙ্গা বিপর্যস্ত মানুষের মুখে এখন সুখের হাসি।


বর্ষা মৌসুমে রাক্ষুসী যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বসত ভিটা বানে ভাসিয়ে নিলেও এখানকার উৎপাদিত ফসল চরাঞ্চলেন মানুষের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। চরের যেদিকে তাকানো যায় শুধু ফসল আর ফসল। নানা ধরনের ফসল চরের বিস্তর্ন অঞ্চল জুড়ে। এ কারণে তারা মুক্তি পেয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে। যমুনার বিস্তীর্ন চরে সরিষা, টমেটো, বাদাম, ডাল, সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, মিষ্টি আলু, ধনে সহ নানা ফসল চাষ করে চরের মানুষ সংসারে এনেছে সচ্ছলতা। নদী ভাঙ্গনে শিকার ও বানভাসি এসব মানুষ অভাব-হতাশকে পেছনে ফেলে নতুন করে ফসল চাষ করে নবউদ্যমে অবতীর্ন হয়েছে জীবনযুদ্ধে। দারিদ্রজয়ী নদী তীরের মানুষ এ বছর শীতের ফসল চাষ করে শতভাগ সাফল্য পেয়েছে।
সরিষা ও ভুট্টার বাম্পার ফলনে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। নদী পাড়ের মানুষের আশীর্বাদও যমুনা। নদী শুধু নিতে জানে না দিতেও জানে। রাক্ষুসী যমুনা যেমন প্রতি বছর ভেঙ্গে ফেলছে জনপদ, ফসলের মাঠ। সেই যমুনাই পলি জমিয়ে সেখানে সোনার ফসল ফলাতেও সমান ভূমিকা রাখছে।


জেগে ওঠা এসব চরে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষে যমুনা আর্শীবাদ হয়ে দেখা দেয় নদী পাড়ের মানুষের জীবনে। চরের পলি পড়া জমি পাট, ভুট্টা, সরিষা, বাদাম ও বোরো সহ অন্যান্য ফসল আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। উজানের মন্নিয়াচর থেকে বরুল, চর নন্দনেরপাড়া পর্যন্ত নদী পথে বিস্তীর্র্ন চর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের বেনুয়ারচর, ডিগ্রীরচর, গাইবান্ধা, গোয়ালেরচর, পলবান্ধা সহ বিস্তীর্ন চরে এসব ফসল আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পুঁজি পেলে এসব ফসল চাষের পরিধি আরো বাড়বে। নদী ভাঙ্গনের লোকশান পোষাতে মৌসুমের শুরুতেই আট ঘাট বেধে চরের জমিতে নিরলসভাবে শ্রম ব্যয় করেন তারা। এবার তাদের ঘামে আর শ্রমে সরিষা ও ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।
ডিগ্রীরচর, বেনুয়ারচর, গাইবান্ধা চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলালের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফসলি জমিতেই এখন যানবাহন চলে আসে। এতে করে উপজেলার সাথে জেলা ও বিভাগের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় এখানকার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি।

তারা আরো জানান, যমুনার ও ব্রহ্মপুত্র চর ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশেষ করে পাট ও মরিচের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা এখানাকার হাটে আসছেন প্রতিনিয়ত। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন হাটগুলোতে ঘটছে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা । চরের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে স্বাবলম্বী অধিকাংশ কৃষক। তাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষাও গ্রহণ করছেন।
সংসার থেকে দুর হয়েছে অভাব-অনটন। তেমনই এক কৃষক আকবর হোসেন নদীতে বাড়ি ঘর হারিয়ে নিঃস্ব, এই কৃষক জেগে উঠা চরে বেগুন, টমেটো চাষে সাবলম্বী হয়ে এখন পাট চাষ করছেন।


ব্রহ্মপুত্র চরের কৃষক মকবুল হোসাইন বলেন, চরের জমিতে ফসল ফলিয়ে আমার মতো অনেকেই অর্থ-বিত্তে সচ্ছল। ধান, টমেটো, গম, পাট, ডাল, সবজি, চিনাবাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, তিল সহ নানা উৎপাদিত ফসলে নিজের চাহিদা মেটানোর পর হাটে বিক্রি করি।
যমুনার চরাঞ্চলবাসী কৃষক সুরুজ মন্ডল জানান, মরিচের আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে মরিচের দাম ও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি এবার ভালো লাভবান হওয়া যাবে।
ইসলামপুর কৃষি কর্মকর্তা মাতিউর রহমান জানান, এ বছর যমুনার ও ব্রহ্মপুত্র চরাঞ্চলের ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানে আবাদ করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয়না। বর্ষ মৌসুমে চরগুলো পানিতে ডুবে থাকে। ডুবে যাওয়া চরে ব্যাপক হারে পলি জমে। জমিতে পলি পড়ায় ক্ষেতে সারের পরিমান কম লাগে এবং ফসল ভাল হয়। এতে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।