শুক্রবার , নভেম্বর ১৫, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বকশীগঞ্জে হত্যা মামলায় দুই শিক্ষককে ফাঁসানোর চেষ্টা


স্টাফ করসপনডেন্ট, বকশীগঞ্জ
জামালপুরের বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের আইরমারী নতুনপাড়া গ্রামে একটি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই শিক্ষককে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের পুলিশের ডিআইজি ও জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন করেছেন দুই শিক্ষকের একজন। গত ২৪ অক্টোবর জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে করা লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, আইরমারী নতুনপাড়া গ্রামের মজিদ আলী ও আঃ হাকিমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত ও ঘরবিহীন একটি পরিত্যক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা নিয়ে একই গ্রামের শহিদুর রহমান মাস্টার সহ গ্রামের অনেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কলহ চলে আসছে। এনিয়ে গ্রাম্য শালিসও হয়েছে। সেই শালিসে বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার, মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জেহাদ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই গ্রামের মো. আশরাফ আলী ২৫ বছর আগে গ্রামের দানেছ আলী ও হারু বাদশার নিকট ৫৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেন এবং বিক্রিত জমিতে ক্রেতাগণ বাড়ী ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছে। এরমধ্যে আশরাফ আলী মারা গেছেন। সেই বিক্রিত জমি মজিদ আলী পুনরায় মৃত আশরাফ আলীর ছেলেদেও কাছ থেকে অবৈধভাবে ক্রয় করেন। পূর্বের ক্রেতাগণ জমি দখল ছেড়েনা দেওয়ায় আইরমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান মাস্টারসহ তার ভাই ও ভাতিজাদেরউপর দোষারোপ করতে থাকেন মজিদ আলী। এনিয়ে শহিদুর রহমান মাস্টারের সাথে মজিদ আলীর দ্বন্দ্ব কলহের সূত্রপাত সৃষ্টি হয়। এদিকে আইরমারী গ্রামের গোলাম মোহাম্মদের ছেলে আঃ হাকিম আইরমারী দক্ষিণ পাড়ায় ছাত্রবিহীন ও ঘরবিহীনএকটি পরিত্যক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা কাগজে কলমে থাকলেও গোপনে জমি দাতা ও অন্যান্য লোকদেও না জানিয়ে শিক্ষা অফিসারের নিকট একটি ভুয়া প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। প্রতিবেদন প্রেরণের বিষয়টি গ্রামের লোকজন জানতে পেওে আঃ হাকিমের ভুয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী মিলে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে শহিদুর রহমান মাস্টার ও গ্রামবাসীর সাথে আঃ হাকিমের শত্রুতা শুরু হয়। গ্রামবাসীর অভিযোগ মজিদ আলী ও আঃ হাকিম তাদের অবৈধ কার্যক্রম গ্রামবাসীর চাপে সফল না হলে তারা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খবির উদ্দিন খোকা মাস্টার ও তার ভাই শহিদুর রহমান মাস্টারসহ গ্রামের সরল সহজ ব্যক্তিদের হেয় প্রতিপন্ন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছে। এই শত্রুতার জের ধওে আঃ হাকিমের মামা আবু বক্কও নুরী হত্যা মামলায় (মামলানং- ২/২১৬) সন্দেহ করে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানী করে তাদের উদ্দেশ্য হাছিল করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনায় লিপ্ত আছে।
গত বছরের ২ জুলাই ইসলামপুর থানায় স্বামী আবু বক্কর নুরী হত্যা মামলার বাদী হয়ে তাহমিনা বেগমের দায়ের করা মামলার নং ২/২১৬ শুধুমাত্র বেপারী মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে আসামী করেন।
আঃ হাকিম তার মামা আবু বক্কর নুরী হত্যা মামলায় তার প্রতিপক্ষ শহিদুর রহমান মাস্টার ও তার ভাই খবির উদ্দিন মাস্টার সহ গ্রামের সহজ-সরল লোকদের ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবু বক্কর নুরীর বাড়ি বকশীগঞ্জ পৌরসভার মালিরচর এলাকায় হলেও পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে মামা হত্যা মামলায় দুই শিক্ষককে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি ও তার বড়ভাই সহ এলাকার ১০/১২ জনের নামের একটি তালিকা তৈরি করে ওই হত্যা মামলার বাদী তাহমিনা বেগমকে ভুল বুঝিয়ে জেলা র‌্যাব অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রদান করে হত্যা মামলায় নিরীহদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে তার ভাগ্নে আঃ হাকিম। আবু বক্কর নুরী হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তদন্ত করে তাদেরকে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অহেতুক কাউকে হয়রানি না করতে গত ২৪ অক্টোবর জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শহিদুর রহমান মাস্টার।

error: Content is protected !!