মঙ্গলবার , অক্টোবর ১৫, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

জামালপুরে লাগাতার যৌন আক্রমনের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান


স্টাফ করসপনডেন্ট
জামালপুরে একের পর এক ধর্ষণসহ পাশবিক যৌন আক্রমনের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার (৬ অক্টোবর) জামালপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও জেলা শিশু কল্যাণ কমিটি জামালপুর।


জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। স্বারকলিপি পাঠ করে শুনান সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জামালপুর জেলার শাখার সভাপতি ও শিশু কল্যাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ বাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ কবীর উদ্দিন, জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জামালপুর জেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সরকার, তরঙ্গ মহিলা কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামীমা খান, উন্নয়ন সংঘের আইআইআরসিসিএল প্রকল্পের সমাজ কর্মী আরজু মিয়া, ডিএইচআরএনএস প্রকল্পের কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন রিয়াদ, বিশিষ্ট রাজনীতিক মোজাহারুল হক, অপরাজেয় বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক আশরাফুল হক, সংস্কৃতিকর্মী ফারজানা ইসলাম, সাংবাদিক মোস্তফা মনজু, সৈয়দ শওকত জামান, জামালপুর সমিতির সভাপতি সান সরকার প্রমুখ। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন নারী, শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এধরণের অমানবিক ঘটনায় কোনো জনপ্রতিনিধি বা অন্য যে কেউ আপোস মিমাংশার চেষ্টা করলে তাকেও আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন তিনি।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, জামালপুরে চলমান যৌন আক্রমন থেকে মা, বোন, কন্যাদের রক্ষা করতে জেলা প্রশাসকের কাছে ১০টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিসমুহ হলো মামলার সাথে যুক্ত ধর্ষকদের তালিকা প্রকাশ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা যারা আপোস করার চেষ্টা করবেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় নেতাদের এ বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করতে হবে। ১৮ বছর বয়সী কারো কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা ছিনিয়ে নিতে হবে। এ ব্যপারে বাবা মাকে জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেম্বলির সময় উদ্বুদ্ধমূলক আলোচনা করতে হবে। প্রচলিত আইন সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। যৌন হয়ারানী নির্মূলকরণে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক মনিটরিং সেল গঠন ও ক্লোজ মনিটরিং করতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যৌন আক্রমনের শিকার নারী ও শিশুকে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। দুর্নীতি ও প্রভান্বিত হবার কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারির বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে। সহজলভ্য যৌন বা ন্যুড এ্যাপস বা অপশনগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। যৌন নির্যাতনের জন্য বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি টহল বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে, ছাত্রীদের যাতায়াতের সময় বিভিন্ন মোড়সহ বিভিন্ন চিহ্নিত এলাকাসমূহ। উল্লেখ্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জামালপুরে যৌন নির্যাতনসহ সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক নির্মূলসহ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

error: Content is protected !!