শুক্রবার , নভেম্বর ১৫, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

নতুন ভবন নির্মাণ হলেও ভাড়া বাসায় চলছে জামালপুর পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম


স্টাফ করসপনডেন্ট
ছয় মাস আগেই শহরের শেখের ভিটা মির্জা আজম চত্ত্বর এলাকায় চার তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখনও ভাড়া বাসাতে চলছে জামালপুর পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম। আর এতে করে সরকারের বাড়তি অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা প্রার্থীরা।


অফিস সূত্র জানাায়, পাসপোর্ট অফিসের জন্য ভাড়া বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে ২৮ হাজার টাকা করে ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অপরদিকে ছোট ছোট কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম চালু থাকলেও এতে দীর্ঘ দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পাসপোর্ট করতে আসা আবেদন কারীগন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে থেকে প্রতিদিন কয়েকশ নারী পুরুষ ও শিশু সকাল থেকেই এসে ভীড় জমায় পাসপোর্ট অফিসে। জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি পৌর শহরের দক্ষিণ কাচারীপাড়া এলাকায় অবস্থিত। অফিসের সামনে সরু একটি গলি আর ভবনের ভিতরে জায়গা না থাকায় পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিদেরকে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। আর এতে করে তাদেরকে স্থানীয় দালালদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে একটি ভাড়া বাসায় জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। শুক্রবার ও শনিবার ব্যাতীত নতুন পাসপোর্ট করতে প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন গ্রাহক এই পাসপোর্ট অফিসে আসেন। এছাড়াও প্রতিদিন আরো ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আসেন নতুন পাসপোর্ট গ্রহন করতে। ফলে অতিরিক্ত লোক আসায় জায়গা সংকটের কারনে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে বেশ হিমসিম খেতে হয়। তাছাড়াও অফিসের সামনের রাস্তাটি সরু ও দু’পাশে ড্রেন থাকায় এবং যানবাহন পার্কিং এর ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পরতে হয় ওই এলাকায় বসবাসকারীদের এবং পাসপোর্ট করতে আসা লোকজনদেরকে। জানাযায়, ২০১২ সাল থেকে ভাড়া নেয়া এই ভবনটিতে হাতে লিখা পাসপোর্ট কর্যক্রম এবং ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরেজমিনে জামালপুর পাসপোর্ট অফিস কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট কয়েকটি কক্ষে অসংখ্য মানুষ তাদের পার্সপোর্ট করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আর ভিতরে জায়গা না থাকায় বাইরে প্রখর রোদ্রের মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরো অনেককেই। নতুন পাসপোর্ট করতে আসা জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ছাইদুর রহমান, রেজাউল করিম, মেলান্দহ উপজেলার ইউসুরিয়া তাহরির বলেন, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিকতায় কোন রকম ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্টি সংগ্রহের সকল কার্যক্রম খুব সহজেই সম্পন্ন করা গেলেও জায়গা সংকটের কারনে ও অতিরিক্ত ভীড় থাকায় বেশ অস্বস্তি অনুভুত হয়। শহরের শেখের ভিটা মির্জা আজম চত্ত্বর এলাকায় নুতন পাসপোর্ট অফিসের নতুন ভবনে গিয়ে দেখা হল নতুন ভবনের কেয়ার-টেকার আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি জানালেন, তার বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায়। গত দুই বৎসর ধরে এই অফিসের নির্মান কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রায় ছয় মাস যাবৎ কাজ শেষ হয়েছে। আমি ভবন নির্মানের শুরু থেকেই এই ভবনে কেয়ার-টেকার হিসাবে আছি। আমার সাথে আমার স্ত্রী ও এক ছেলে থাকে। এই ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস হল। এখন শুধু কাজ শুরু করার অপেক্ষা মাত্র। জামালপুর পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আহসান হাবীব বলেন, পাসপোর্ট করতে আসা কোন ব্যক্তিই যেনো ভোগান্তির শিকার না হয় সে দিকে আমার বিশেষ নজর রয়েছে। তিনি বলেন আমাদের পাসপোর্ট অফিসের জন্য শহরের শেখের ভিটা মির্জা আজম চত্ত্বর এলাকায় একটি চার তলা বিশিষ্ট বিশাল ভবন নির্মিত হচ্ছে। ভবনের কাজ প্রায় শেষ। ওই ভবনে চলে গেলে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

error: Content is protected !!