রবিবার , সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

স্ট্যন্ডিং টিকেট কাটা লাগবে না, আমার সাথে আসেন


স্টাফ করসপনডেন্ট
“স্ট্যন্ডিং টিকেট কাটা লাগবে না, আমার সাথে আসেন। টিকেট মূল্য যা আছে তাই দিয়েন। বসিয়ে নিয়ে যাবো আর বাকি সব আমি দেখবো।” জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকেট কাটার জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকা ভ্রমনকারীদেরকে এভাবেই বলতে দেখা যায় জামালপুর রেলওয়ে থানার কয়েকজন কনস্টেবলকে। এতে কয়েকজন কনস্টেবল লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।


জামালপুর-ঢাকা রেলপথে ৪টি আন্ত:নগর, ৩টি মেইল, ২টি কমিউটার ও ২টি লোকাল ট্রেনসহ মোট ১২টি ট্রেন চলাচল করে। জামালপুরসহ শেরপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দারাও এই রেলপথে যাতায়াত করে থাকে। চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা কম থাকায় এই পথে ভ্রমনকারীরা আসন ছাড়া আসনবিহীন টিকেট কেটে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে থাকে। ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষন আগে কাউন্টার থেকে দেওয়া হয় এই টিকিট। তবে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, জামালপুর জিআরপি থানার কয়েকজন অসাধু কনস্টেবল আসন বিহীন টিকেট করতে আসা ভ্রমনকারীদের টিকেট না করার পরামর্শ দেন এবং ভ্রমনকারীদের বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে টিকেটের মূল্য নেন। ১লা সেপ্টেম্বর বিকালে অগ্নিবীনা ট্রেন ছাড়ার আগ মূহুর্তে জামালপুরে রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়। টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে থাকা ভ্রমনাকারীদের এক পাশে কনস্টেবল রবিন্দ্র চন্দ্র দে সহ কয়েকজন কনস্টেবলকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আসন বিহীন টিকিট কাটতে আসা ময়মনসিংহ গামী যাত্রীদের সাথে কথা বলতে দেখা যায় তাদের এবং টিকিট না করার পরামর্শ দিয়ে বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা দাবি করেন। এতে কয়েকজন যাত্রী রাজি হয়ে তাদের বলে দেওয়া আসনে গিয়ে বসে যান। ট্রেন ছাড়ার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত এভাবে প্রায় ৭-৮ জন ভ্রমনকারীদের বুঝিয়ে ট্রেনে তুলেন তারা। মাঝে মাঝে টিকিট কালোবাজারিদের সাথেও কাজ করতে দেখা যায় তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী জানান, টিকিট কালোবাজারিরা রেলওয়ে পুলিশের সামনেই টিকিট বিক্রি করলেও নিশ্চুপ থাকে তারা এবং মাঝে মাঝে তাদের কাছ থেকেই টিকিট কাটার পরামর্শ দেন তারা। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা অনেকদিন থেকেই এমন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এভাবে তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের এমন কর্মকান্ডে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার। রেলওয়ে পুলিশের এমন কর্মকান্ড দ্রুত না বন্ধ হলে সামাজিক আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি।
এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিতের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ আছি। আমার এ বিষয়ে জানা নেই। এটা কতটুকু সত্য আমি যাচাই করে দেখি। জামালপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: শাহাবুদ্দিনের সাথে মোবাইল যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এরপর থেকে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

error: Content is protected !!