সোমবার , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

রাজীবপুরে বন্যায় ডুবছে লোকালয়, ভাঙ্গছে বাড়িঘর

সহিজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
গত এক সপ্তাহ থেকে মুশলধারার বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজীবপুর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাবে ব্রহ্মপুত্র, সোনাভরী ও জিনজিরাম নদ নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে বন্যার সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন।
শনিবার উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ শতাধিক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। নতুন করে বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন, সকাল থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ২৫০ টির মত বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। বন্যায় ডুবে গেছে শিকার পুর, নাওশালা, বড়বের, কিত্তনতারী গ্রামের ২হাজার মানুষের বসতভিটা। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়া ও বন্যার্ত মানুষজন গৃহপালিত প্রাণী নিয়ে রাস্তার ধারে অস্থায়ী ঘর করে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।
কোদালকাটি ইউনিয়নে ৪০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে পানিবন্দি হয়ে পরেছে শংকরমাধবপুর, চরসাজাই, কোদালকাটি, কারিগর পাড়া গ্রামের ১৫০০ মানুষ।একটি স্কুল ও ক্লিনিক নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় ভেঙ্গে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজীবপুর সদর ইউনিয়নে দেড় শতাধিক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে মদনেরচর, বদরপুর, টাঙ্গালিয়া পাড়া, আজগরদেওয়ানী পাড়া। এসব গ্রামের ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাজীবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের জন্য শুকনো খাবার, ৩ মেঃটন চাল, ৫০ হাজার টাকা ও ৪০টি পরিবারের জন্য ৮০ বান্ডেল টিন বরাদ্দ করা হয়েছে, রবিবার থেকে বিতরণ শুরু করা হবে।
রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, বন্যার তথ্য সংগ্রহ করার জন্য টিম গঠন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বন্যার তথ্য সংগ্রহ করছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্তদের জন্য সাধ্য অনুযায়ী সহযোগীতা করা হবে।
error: Content is protected !!