সোমবার , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

গাইবান্ধার তিন পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনব্যাপি অবস্থান কর্মবিরতি পালন, বিপাকে পড়েন নাগরিকরা


রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা
বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানীভাতা ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শতভাগ বেতন-ভাতাসহ পেনশন প্রথা চালুর দাবিতে গাইবান্ধা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে সোমবার অফিস তালাবন্ধ রেখে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনব্যাপী অবস্থান কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মবিরতির এই কর্মসূচি পালন করা হয় জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায়ও। এ সময় পৌরসভার সকল নাগরিক সেবা বন্ধ থাকায় সেবা গ্রহীতারা পড়েন বিপাকে।
গাইবান্ধা পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি অমিতাভ চক্রবর্তী রিন্টুর সভাপতিত্বে কর্মবিরতি চলাকালে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম সিদ্দিকুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল হক, বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক বিপুল কুমার সাহা, গাইবান্ধা জেলা পৌর সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সূচনা সরকার, সাবেক সভাপতি আব্দুল আহাদ বাবু, অসিম কুমার মহন্ত, যুধিষ্ঠির চন্দ্র সরকার ও নুর হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, দেশের ৩২৭টি পৌরসভার মধ্যে অধিকাংশ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পান না। অনেক পৌরসভায় দুই মাস থেকে সাড়ে ছয় বছর পর্যন্ত বেতন ভাতাদি বকেয়া রয়েছে। এমনকি কোথাও-কোথাও উৎসব ভাতা হতেও বঞ্চিত হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। ফলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতনভাতা প্রদানসহ পেনশন প্রথা চালুর এই দাবী মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোড়ালো আহবান জানান।
এদিকে অফিস তালাবন্ধ রেখে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনব্যাপী অবস্থান কর্মবিরতি পালনের ফলে বিড়ম্বনায় পরেন সেবাগ্রহীতারা। সেবা নিতে আসা গাইবান্ধা পৌরসভার কুঠিপাড়ার মিজানুর রহমান (৩২) বলেন, পৌরসভায় আমার ভাইয়ের মৃত্যু সনদ নিতে এসে দেখি পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধ। কেউ নাকি কাজ করবেন না। বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে। কাল আবার আসতে হবে।

error: Content is protected !!