বুধবার , ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ময়মনসিংহে সনাক-টিআইবি’র উদ্যোগে বিচার বিভাগের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ময়মনসিংহ সদর ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর উদ্যোগে বাংলাদেশের অধস্তন আদালত ব্যবস্থা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (১৫ জুন) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালার প্রেক্ষাপটসহ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেলাল উদ্দিন। কর্মশালায় ‘বাংলাদেশের অধস্তন আদালত ব্যবস্থা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন টিআইবি’র রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম। পরে গবেষণার ফলাফলের উপর সকলের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্ত আলোচনায় ময়মনসিংহের বিজ্ঞ বিচারকগণের মধ্যে হতে সুচিন্তিত মতামত এবং পরামর্শ প্রদান করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস.এম. এরশাদুল আলম, স্পেশাল জজ মো: এহ্সানুল হক, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: ইকবাল হোসেন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহা: হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিদ্যুৎ) এস.এম. হুমায়ুন কবীর, যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো: আবু বকর ছিদ্দিক, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বেগম মোসাঃ রওশন আরা রহমান প্রমূখ। এছাড়াও আইনজীবীগণের মধ্যে অধস্তন আদালত ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন প্রবীণ আইনজীবী এড. মো: জহিরুল হক খোকা, এড. মোঃ আনিসুর রহমান খান, এড. বদর উদ্দিন আহমেদ, এড. শ্রী বাঁধন কুমার গোস্বামী, এড. এমদাদুল হক মিল্লাত, এড. আব্দুল ওয়াদুদ ভূঞা, অরন্য-ই-চিরান প্রমূখ। এছাড়াও কর্মশালায় ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মো: জালাল উদ্দিন খান, বিচারিক সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, সনাক, এলাক ও প্যারালিগ্যাল সদস্যবৃন্দসহ টিআইবি কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।


কর্মশালায় জেলা ও দায়রা জজ মো: হেলাল উদ্দিন বিচারিক সেবা খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে প্রথমবারের মতো এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের জন্যে টিআইবি ও সনাক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্ণীতি নামক রোগ যেহেতু হয়েছে সেহেতু তা স্বীকার করতেই হবে। এক্ষেত্রে টিআইবি খুবই সুন্দরভাবে এবং ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সকলে টিআইবিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। তিনি আরো বলেন, টিআইবি সাহস নিয়ে কাজ করছে, অনেকই অনেক কথা বলছে তাই অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্নীতি একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা যা কম বেশি সকল প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগেরও দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রয়েছে সীমিত পরিসরে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম। তাই সম্মিলিত প্রয়াসে তা দূর করতে হবে। সেগুলো নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং সে সুযোগ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আয়োজিত কর্মশালার মাধ্যমে যে সকল বিষয় উঠে এসেছে তা বাংলাদেশের অধস্তন আদালত ব্যবস্থায় সুশাসন চর্চার ক্ষেত্রে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এডভোকেসির জন্য এবং সুশাসন চর্চার পরিসর বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ সকল সুপারিশ ভবিষ্যতে বিচারিক ব্যবস্থায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এ প্রেক্ষিতে আগত সময়ে বিচার বিভাগের সাথে টিআইবি’র আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরী হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি কর্মশালায় উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের বিপরীতে মতামত ও টিআইবি’র অবস্থান তুলে ধরেন। সবশেষে সনাক সভাপতি শরীফুজ্জামন পরাগ ময়মনসিংহের বিচারিক সেবা খাতের সাথে সম্পৃক্ত সকলের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও কর্মশালা আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সনাক-টিআইবি’র পক্ষ হতে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

error: Content is protected !!