সোমবার , আগস্ট ১৯, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ইসলামপুরে ২০৬ বস্তা ভিজিডির চাল গায়েব

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলামপুর
জামালপুরের ইসলামপুরে কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের দু’শ ছয় বস্তা ভিজিডি চাল গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত করে চাল গায়েব হওয়ার সত্যতা পেয়েছেন ভিজিডি চাল বিতরণেরর ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। তবে চেয়ারম্যান বলছেন চাল রাখা হয়েছে অন্য গুদামে।
জানা গেছে, কুলকান্দি ইউনিয়নে ভিজিডি ২২৫ জন দুঃস্থ কার্ডধারী রয়েছেন। ভিজিডি কার্ডধারীদের মার্চ ও এপ্রিল মাসের বরাদ্দের ৪শ ৫০ বস্তা ভিজিডি চাল উত্তোলন করে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট তার বাড়িতে অস্থায়ী ইউপি কার্যালয়ে মজুদ করেন। কিন্তু ঈদের আগে চালগুলো বিতরণ না করায় ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে ক্ষোভ ও চালগুলো কালোবাজারে বিক্রি হয়ে যাওয়ার সন্দেহ দেখা দেয়। পরে তারা এবং ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলামপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা মনি ও সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ভিজিডি বিতরণেরর ট্যাগ অফিসার মো. জাকির হোসেনকে চাল গায়েব হওয়ার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি অফিস সহকারী মোশারফর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে যান। তারা মজুদ চালের বস্তা গুণে সেখানে দু’শ ছয় বস্তা চাল কম পান।
এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন চাল কম থাকার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর নিয়ে ওই দিনই ইউএনওর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এ প্রতিবেদক কে বলেন, তদন্তে দু’শ ছয় বস্তা চাল কম পাওয়া গেছে। ইউএনও স্যারকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, পরিষদ থেকে ভিজিডির কোনো চাল গায়েব হয়নি। অন্য গুদামে আছে। আমি ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছি। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে। ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তদন্তে ২শ ৬ বস্তা ভিজিডি চাল ইউপি গুদাম থেকে গায়েব হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন চালগুলো নাকি অন্য গুদামে আছে। চালগুলো পরিষদের গুদামে ফেরত আনার জন্য উনি আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। যদি তিনি তা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন তাহলে তার বিরুদ্ধে পরিষদের ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
error: Content is protected !!