সোমবার , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সাম্য’র গান গাওয়া হলো না কোলকাতার স্টার জলসার প্রতিযোগিতায়


স্টাফ করসপনডেন্ট
জামালপুরের ছোট্ট “গানের পাখি” নয় বছর বয়সী সাম্য’র গান গাওয়া হলো না কোলকাতার স্টার জলসার প্রতিযোগিতায়। ১ জুন শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টা থেকে শুরু হয়েছে সুপার সিঙ্গার (জুনিয়ার) নামে ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের নিয়ে এই রিয়ালিটি শো। প্রত্যেক শনি ও রবিবার এই প্রতিযোগিতা চলবে।
সাম্য ভারতের পশ্চিম বাংলার রাজধানী কোলকাতার স্টার জলসার এই প্রতিযিাগিতায় অংশ নেয়ার ডাক পেয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। সাম্য তার মাকে নিয়ে মে মাসের ১৬ তারিখে কোলকাতায় গিয়েছিল। কোলকাতার গরম আবহাওয়া এবং সার্বক্ষনিক এসি রুমে বসে গ্রোমারদের তত্ত্বাবধানে মিউজিয়ানদের সাথে গান চর্চা করতে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। প্রচন্ড ঠান্ডা লেগে সাম্য’র গলা বসে যায় এবং জ্বর আসে। অসুস্থ্য শরীরেই মাত্র একটি গান রেকর্ড করে সে বাংলাদেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। স্টার জলসা কর্তৃপক্ষ সাম্যকে ডাক্তার দেখিয়ে ২৩ মে বিমান যোগে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। সাম্য বর্তমানে জামালপুরের মেলান্দহে সরকারি কেয়ার্টারে তাদের বাসায় চিকিৎসাধীন আছে।


মেলান্দহ উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিস সহকারি-কাম কম্পিউটার অপারেটর আজমত আলীর কন্যা লিউনা তাসনিম সাম্য। তার মাতার নাম আরজুমান মোস্তারী সম্পা। উপজেলা কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টারে তারা বসবাস করে। চাকরীর সুবাদে আজমত আলীকে মেলান্দহের অধিবাসী বলে গন্য করা হলেও তার পৈত্রিক বাড়ি জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের মেইয়া গ্রামে। সাম্য ছোটবেলা থেকেই গান, নাচ, চারুকলা এবং পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। গানে তার এই মেধা দেখে আজমত আলী স্থানীয় গানের শিক্ষক রফিক মিয়াকে গান শেখানোর দায়িত্ব দেন। এছাড়া স্থানীয় গানের শিক্ষক শান্ত তাকে গান শেখান। বর্তমানে তাকে উচ্চাঙ্গ এবং অন্যান্য সংগীতে তালিম দিচ্ছেন জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিশিষ্ট উচ্চাঙ্গ সংগীত প্রশিক্ষক সুশান্ত কুমার দেব কানু উরফে সুশান্ত কানু। সাম্য এই বয়সেই যে কোন কঠিন গান একবার শুনেই হারমোনিয়ামে অনায়াসে তুলে ফেলতে পারে। তার কন্ঠটিও অত্যন্ত সুরেলা এবং কারুকাজে ভরা। শুনে মনে হবে রেওয়াজি কন্ঠ। তার এই গানের গলা শুনে কৌতূহল জাগে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামিম আল ইয়ামিনের মনে। তিনি সাম্য’র একাটি গান মোবাইলে ধারন করে ফেসবুকে প্রচার করে দেন। এটিই নজরে আসে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের। এতে করে সাম্যর গান সারা দেশে ভাইরাল হয়ে যায়। সাম্যকে নিয়ে একটি স্টোরি করে প্রচার করে ২১শে টেলিভিশন। এরপর বিবিসি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল থেকে তার ডাক আসে। ইতিমধ্যে প্রথম আলো পত্রিকার ফেসবুক পেইজে সাম্য’র বিভিন্ন অঙ্গের ৪টি গান রেকর্ড করে প্রচার করা হয়। এইগান শুনে স্টার জলসার সুপার সিঙ্গাার (জুনিয়ার) এর বিচারক মন্ডলী- কুমার সানু, জিৎ গাঙ্গুলী এবং কৌশিকী চক্রবর্তী মুগ্ধ হন। সেখানে অডিশন রাউন্ড শেষ হওয়ার পরেও কোন অডিশন ছাড়াই সাম্যকে এই প্রতিযোগিতায় গান গাওয়ার অনুমতি পত্র পাঠায় কর্তৃপক্ষ। এ সময় সাম্য বিটিভিতে একটি গান গাওয়ার সুযোগ পায় এবং গানটি রেকর্ডও করা হয়। এই গানটি বিটিভিতে ঈদের দিন রাতে “আনন্দ মেলা” অনুষ্ঠানে রাত ১০ টার ইংরেজী সংবাদের পর দেখানো হবে। ভারতীয় চ্যানেল থেকে ডাক আসার পর সাম্য ও তার মা গত ১৬ মে সকালের ফ্লাইটে কোলকাতা চলে যায়। মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মীর্জা আজম কোলকাতার এক পরিচিত ভদ্রলোককে অনুরোধ জানান সাম্য ও তার মাতাকে দেখা শোনার জন্য। সেই ভদ্রলোক কোলকাতা বিমান বন্দর থেকে তাদেরকে নিয়ে যথাস্থানে রেখে আসেন। এরপর সাম্য বিটিভির রেকর্ড করা গানের সাথে ঠোঁট মিলানো এবং কোরিওগ্রাফি করার জন্য ১৮ মে বাংলাদেশে এসে আবার ১৯ মে বিমানে কোলকাতায় ফিরে যায়। এদিকে ১ মে থেকে এই প্রতিযোগিতার ক্ষুদে শিল্পীদের গ্রুমিং শুরু হয়ে যায়। একদিকে গ্রুমিং করার সময় কম পাওয়া এবং অন্যদিকে বারবার ভ্রমন, কোলকাতার আবহাওয়া ও সার্বক্ষনিক এসিতে বসে গান অনুশীলন করার কারণে সাম্য অসুস্থ্য হয়ে পড়ার কারনে সাম্য সেখানে ভাল করে গান গাইতে পারেনি। একটি গান রেকর্ড করেই তাকে চলে আসতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাম্য জানায়, স্টার জলসার কর্মকর্তারা তার খুব যত্ন নিয়েছেন এবং বাংলাদেশে আসার জন্য তাদেরকে বিমান বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, “তুমি অসুস্থ্যতার জন্য গান গাইতে পারনি কিন্তু আগামী সিজনে এই প্রতিযোগিতায় তোমাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সুযোগ দেয়া হবে”। সাম্য’র বাবা আজমত আলী জানান, দুর্ভাগ্যের কারনে সাম্য কোলকাতায় গান গাইতে পারেনি। তবে স্টার জলসা কর্তপক্ষের আতিথিয়তায় আমি মুগ্ধ। সাম্য’র এখন গান শেখার বয়স। সে এখন সুশান্ত কানুর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখছে। তার শেখা একটি পর্যায়ে এলে তাকে আবার গান গাওয়ার জন্য ভারতে পাঠাবো।


সঙ্গীত শিক্ষক সুশান্ত কানু বলেন, সাম্য একজন মেধাবী ছোট্ট “গানের পাখি”। তার ঈশ্বর প্রদত্ত কন্ঠ এবং গান রপ্ত করার মেধা আমাকে অবাক করে দিয়েছে। যে আশা নিয়ে আমি তাকে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলাম, সে আশা পূরণ হয়নি। আমার বিশ্বাস সাম্য একদিন বাংলাদেশের বড় শিল্পি হবে।

error: Content is protected !!