বুধবার , জুন ২৬, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

শিশুরা নিরাপদ কোথায়?

সোহেল রানা
একটি শিশু পৃথিবীতে জন্ম নেয় সমাজে কোন এক পরিবারে, সেই শিশুটি বেড়ে ওঠার সাথে সাথে সকল অধিকার নিয়ে বেড়ে ওঠার জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সমাজে সকল স্থানে তার নিরাপত্তা অপরিহার্য। যুগের পরিবর্তনে ও উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের এই দেশ এমনভাবে বদলে যাচ্ছে যা লজ্জানীয় হয়ে ওঠেছে। একটা সময় ছিল যে টেলিভিশন চালু করলে বা সংবাদপত্রের দিকে চোখ রাখলে দেখতে পেতাম চারদিকে চুরি, ডাকাতি ও লুটপাটের খবরের সংখ্যাই বেশি। দিন পরিবর্তনের সাথে সাথে লুটপাটের খবরের সাথে পাল্লা দিয়ে ইদানিং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় বা টেলিভিশনের পর্দায় প্রধান শিরোনাম হিসেবে দেখতে পাই শুধু ধর্ষণের খবর । গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের নারী ধর্ষনের শিকার হয়েছে ৩ হাজার ৫শ ৮৭ জন ও ধর্ষনের পর হত্যা ২শ ৭৮ জন। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই শিশু ও কিশোরী যাদের বেশি ভাগই ৬-১২ বছর বয়সী যা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে ওঠে এসেছে। আমার পরিপূর্ণ জ্ঞান হবার পর থেকে দেশে কখনো এই রকম ধর্ষণের খবর শুনি নি। মিডিয়ায় প্রতিবেদনে এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই দেশে ৫২ টি ধর্ষণ, ২২টি গণধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মাঝে বেশির ভাগই ঘটেছে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা শিশুদের সাথে, যে মেয়ের এখনো বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হওয়া তো দূরের কথা, যৌনতা সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানই নাই এই শিশুদের মানুষ রূপী পশুর কাছে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। সমাজে যদি কিশোরী বা যুবতী মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে আমরা বলে থাকি তার কোন না কোন দোষ আছে! কিন্তু যারা এই নিস্পাপ অবুঝ বয়সে বা দুই চার সন্তানের জননীর মতো আরো জননী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তাদের কি দোষ ছিল? যে সকল মানুষ রূপী পশু নিজের পুরুষত্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা নিজের মা বোনের সাথে এই কাজে লিপ্ত হবে কিনা তার কোন বিশ্বাস আছে! একজন শিশুর পরিবারে পিতা মাতার পরেই সবচেয়ে কাছের মানুষ হলো তার শিক্ষক। শিশুটি তার শিক্ষকের কাছে থেকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষাই শুধু গ্রহন করে না, সমাজে চলার জন্য আচার ব্যবহার চরিত্র গঠন সহ সকল শিক্ষা অর্জন করে। কেউ বলেছেন পিতা মাতার পরেই শ্রদ্ধার পাত্র হলো শিক্ষক। আমাদের দেশের মানুষ গড়ার কারিগর ও জাতির কাছে সু-নাগরিক হিসেবে উপহার দেওয়া শিক্ষকের একান্ত কাজ। কিন্তু এই সমাজে জ্ঞানহীন অল্পবিদ্যায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে অগনিত শিক্ষক যাদের দ্বারা অবুঝ নাবালিকা মেয়েশিশুরা যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাহলে এই শিশুরা শিক্ষার স্থান থেকে কি পেল? শিশুরা বিদ্যালইয়ে যায় শিক্ষা গ্রহন করার জন্য, তাহলে এটাই কি শিক্ষা? এই সমাজ বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে সকল কিছুর মতো বিবেকও এতটা উন্নতি দিকে যাচ্ছে। যার ফলে মানুষের কাতার থেকে মানুষ গড়ার কারিগরাও পশুর কাতারে ছিটকে পড়েছে। তাহলে শিশু কোথায় নিরাপদ? যখন শিশু কিশোরী বা তরুণীরা ধর্ষণের শিকার হয় তখন আমরা শুধু মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি কিভাবে যৌন নির্যাতনের বা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমরা কি এটা জানি? এই ধর্ষণের শিকারের ফলে সমাজে বেচে থাকার জন্য তাকে কত বাধার সম্মুখীন হতে হবে। সমাজ এই সকল মেয়েদেরকে কোন দৃষ্টিতে দেখে? শুধু ধর্ষণের ফলে ওই মেয়েটার জীবনের সকল স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায় না, পুরো পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে নেমে আসে অশান্তির ছায়া। ওই মেয়েটিকে সমাজের প্রতিটি ধাপে যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলতে হয়, এমনকি সমাজে ওই মেয়েরা লোকের অপবাদ সহ্য করতে না পেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। তাই সমাজের লোকদের উচিৎ অপবাদ নয়, ভালোবাসার মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখানো, জীবন এখানেই শেষ নয়। এই সকল বিষয়ে বাংলাদেশ আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলো ভালো ভূমিকা পালন করে আসছে তবুও আমি তাদের কাছে অনুরোধ করি আপনাদের আরো কঠোর হতে হবে। এই সকল পশুদেরকে এমন ভাবে শাস্তি দেওয়া হোক যেন আর কোন ব্যাক্তি এই ধর্ষণের নামও না নিতে পারে । আমি বিচার প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে একজন শিশু সাংবাদিক হিসেবে অনুরোধ করছি, আপনারা তাদের বিচার কাজ দ্রুত সম্পূন্ন করুন। যেন তারা কোন কিছুর মূল্যেও বিচার থেকে ছাড় না পায়, সে হোক আমার পরিবার বা সমাজের সদস্য। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের সমাজের সকলকেই সর্তক ও প্রতিবাদী হতে হবে। তা না হলে কবে কখন এই পশুরা আপনার আমার বোনের প্রতি আক্রমণ করে। সমাজের সকলে এক সাথে জেগে ওঠে প্রতিবাদী হয়ে শাস্তির মধ্য দিয়ে বন্ধ করতে হবে ধর্ষণ, মহৎ ব্যাক্তিদের স্লোগানকে বাস্তবায়িত করে গড়ে তুলতে হবে সোনার বাংলাদেশ।
লেখকঃ সোহেল রানা, শিশু সাংবাদিক
error: Content is protected !!