মঙ্গলবার , জানুয়ারি ২২, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ইসলামপুরে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে তৎপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা


লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলামপুর
সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলাপ আলোচনা। চায়ের দোকানের আড্ডার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর ছবি, পোস্টার ইত্যাদি পোস্ট করছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের খোজ খবর নিতে শুরু করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের কাছে জানা যায়, এখনো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হয়নি। তবুও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করা বা না করা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইসলামপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক মেয়র জিয়াউল হক জিয়া। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট জামান আবদুন নাছের বাবুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাকছুদুর রহমান আনছারী। জিয়াউল হক জিয়া বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা পালন করছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগের সদস্য থেকে শুরু করে যুবলীগ, আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। সদ্য সংসদ নির্বাচনে তিনি এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীও ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট জামান আবদুন নাছের বাবুল নির্বাচন করতে চান। তিনি সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্ষিয়ান নেতা মরহুম খোরশেদুজ্জামান মিসরি মিয়ার পুত্র। তার বাবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রয়েছে। পরিবারিকভাবে তিনি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি জামালপুর আইনজীবী সমিতির দুইবারের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মানুষের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাকছুদুর রহমান আনছারী। তিনি বর্তমানে গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্বও পালন করছেন। এর আগেও তিনি সফলতার সাথে প্রায় এক যুগ চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করে উপজেলাতে সুনাম অর্জন করেছেন। সমাজে অনাচার রোধ, বাল্য বিয়ে বন্ধ, মাদক নির্মূলে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি। শিক্ষা ও সমাজের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি একাধিক বার বিভিন্ন পদক পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলা জুড়ে ব্যানার ফ্যাস্টুন, পোস্টার লাগানো সহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে মত বিনিময় ও গণসংযোগ করে ব্যপক প্রচার প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন।
প্রার্থীরা বিভিন্ন গণসংযোগে ব্যস্ত থাকলেও শেখ হাসিনা যাকে নৌকার মনোনয়ন দেবেন তাকেই বিজয়ী করার ঘোষনাও দিচ্ছেন তারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, স্বাধীনতার পর এই উপজেলায় তিনবারের এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলালের প্রচেষ্টায় ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশাল ব্যবধানে নৌকার বিজয় অর্জন করায় দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এছাড়াও দলের জনসমর্থনও বেড়েছে। তবে এলাকার উন্নয়ন, সাংগঠনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, নেতাকর্মীদের মূল্যায়নকারী প্রার্থীকে শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।