মঙ্গলবার , জানুয়ারি ২২, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে পাওনা টাকা নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১


সিনিয়র স্টাফ করসপনডেন্ট, সরিষাবাড়ী
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী পলাশ মিয়াকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বন্ধু সাগর মিয়া। রোববার রাত ৭টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাগর মিয়ার দাদী রওশনারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোগলদিঘা ইউনিয়নের কান্দার পাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের একমাত্র ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী পলাশ মিয়া। পলাশ পোগলদিঘা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্র। কিছু দিন আগে পলাশের প্রতিবেশী ফাহিম মিয়া অষ্টম শ্রেণীর সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য দুই হাজার টাকা দেয় সাগর মিয়াকে। এ টাকা নিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে না দেয়ায় টাকা ফেরত চায় ফাহিম মিয়া। টাকাও ফেরত না দিলে ক্ষোভে ফুসে উঠে ফাহিম। একপর্যায় রোববার রাত ৭টার দিকে ফাহিম তার প্রতিবেশী পলাশ মিয়াসহ ১০/১২ জন বন্ধুদের নিয়ে পাওনা টাকা চাইতে যায় সাগর মিয়ার বাড়িতে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ বাধে। বিরোধের একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ হাতাহাতি চলাকালে প্রতিপক্ষকে লাঠিপেটা করতে থাকে সাগর মিয়া ও তার বাড়ির লোকজন। এতে সবাই দৌড়ে স্থান ত্যাগ করে। এ সময় পলাশ মিয়া মাটিতে পড়ে যায়। পরে তার ওপর হামলা চালিয়ে কুড়াল দিয়ে এলোপাতারি কুপাতে থাকে সাগর মিয়া। এতে গুরুতর আহত হয় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে পলাশ মিয়া। পরে পলাশকে ল্যাপ দিয়ে মুড়িয়ে সাগর মিয়ার বাড়ির লোকজন এক কিলোমিটার দুরে আব্দুল্লাহ মোড় নামক স্থানে ফেলে আসে। এখান থেকে গুরুতর আহত পলাশকে প্রথমে সরিষাবাড়ী পরে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাগর মিয়াসহ তার বাড়ির লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাগরের দাদি রওশনারা বেগমকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। ওসি (তদন্ত) জোয়াহের হোসেন খান জানান, পলাশ হত্যার মামলা এখনো হয়নি। তবে সাগর মিয়ার দাদি রওশনারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় আনা হয়েছে।