রবিবার , ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

 মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভালোবাসি জামালপুর’

স্টাফ করসপনডেন্ট

‘ভালোবাসি জামালপুর’ নামে  স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠন প্রতি বছর ‘মুক্তির রং’ শিরোনামে একটি আয়োজনের মাধ্যমে জেলার গুণীজনদের  সম্মাননা দিয়ে আসছে। এ বছর মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলাল, বীরপ্রতীক  পেয়েছেন এই সম্মাননা ।

আজ ১৫ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজীব কুমার সরকার, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি আলী ইমাম দুলাল, জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিক জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ‘ভালোবাসি জামালপুর’-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ফজলে রাব্বি ও কর্মসূচী সমন্বয়ক সেরাজুম মুনিরা জায়না।শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি রবিউল ইসলাম। অনু্ষ্ঠান উপস্থাপনা করেন স্বপন বিশ্বাস।

সৈয়দ সদরুজ্জামান ১৯৭১ সালে কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯। মা-বাবার অনুমতি নিয়েই তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে ১১ নম্বর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জ সাব সেক্টরের একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কামালপুরসহ আরও কয়েক স্থানের যুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নেন। তিনি ও তাঁর দলের মুক্তিযোদ্ধারা যথেষ্ট সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন করেন। তাঁর দলের বেশ কয়েকজন সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য খেতাব পান। মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্বের জন্য সৈয়দ সদরুজ্জামানকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী তাঁর বীরত্বভূষণ নম্বর ৪১৭।

সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলালের পৈতৃক বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ (সাহেব বাড়ি) গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ বদরুজ্জামান। মা সৈয়দা খোদেজা জামান। স্ত্রী সৈয়দা সাহানা জামান। তাঁর এক ছেলে, দুই মেয়ে।

অতিথিরা তাদের বক্তব্যে ভালোবাসি জামালপুরের এই উদ্যোগকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহবান করেন।

মুক্তির রং আয়োজনে সম্মাননা ছাড়াও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু–কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনলাইনে কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।