বৃহস্পতিবার , নভেম্বর ১৫, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

মানুষের ভোগান্তি কমাতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা উজ্জল দৃষ্টান্ত


লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলমাপুর
“গ্রামে যখন মামলা মেটে, কেন যাবো থানা কোর্টে” এমন আলোচনা জামালপুরের সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে। কম সময়ে-অল্প খরচে প্রতিকার পাওয়ায় সাধারন মানুষ এখন গ্রাম আদালতের উপর আস্থা পেয়েছে।
জানাগেছে, ২০১৭ সালের জুলাই মাস হতে সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত জেলার ৪টি উপজেলায় ১৫৩১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১২১৬টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে এবং ৪৮টি মামলা চলমান আছে। নিস্পত্তিকৃত মামলা থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬০ টাকা ক্ষতিপুরন আদায় হয়েছে। বিগত দিনে যে কোন অপরাধের বিচারের জন্য সাধারন মানুষ গ্রাম থেকে থানা ও জেলা আদালতে দৌড়াতো। এতে করে যেমন ছোট ছোট বিরোধের জন্য অনেক টাকা খরচ হতো, অন্যদিকে মামলার রায়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। ফলে গ্রামের সাধারন দরিদ্র মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি’র আর্থিক সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৭ সালে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প সারাদেশে ২৭টি জেলায় ১২৮ উপজেলায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর ও বকশীগঞ্জ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত আছে। গ্রাম আদালতে কেউ কোন অভিযোগ আনলে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অভিযোগগুলো গ্রহন করে এবং নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানাগেছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং উচ্চ আদালতের মামলা জট কমাতে গ্রাম আদালত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে সুধী মহল জানিয়েছে। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা মাদারীপুর লিগাল এইড এসোসিয়েশন’র জামালপুর জেলা সমন্বয়কারী মতিয়ার রহমান জানান, গ্রামের মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যানদের আন্তরিকতা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়দের কার্যকরী তত্বাবধান এবং ডিডিএলজি মহোদয়ের সময় উপযোগী পদক্ষেপের ফলে।