রবিবার , সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বকশীগঞ্জে ঋনের টাকা শোধ করতে গর্ভের সন্তান বিক্রি ! ইউএনও’র হস্তক্ষেপে রক্ষা


স্টাফ করসপনডেন্ট, বকশীগঞ্জ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অভাবের তাড়নায় নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রি করেছে এক মা। বকশীগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা শুনেই শুক্রবার বিকালে ছুটে যান ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রদান করেন নগদ অর্থও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামের দম্পত্তি জাহাঙ্গীর ও রাবিয়া বেগম। ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে ৪টি সন্তান লাভ করেন তারা। ভূমিহীন এই দম্পত্তির সন্তান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অভাবও সমান তালে বৃদ্ধি পায়। মাস তিনেক আগে এনজিও আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের নিকট থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে স্ত্রী সন্তান রেখে পালিয়ে যায় স্বামী জাহাঙ্গীর। ঋণের টাকার হাতে থেকে বাঁচতে স্বামীর বাড়ী থেকে পালিয়ে এসে পৌর এলাকায় পশ্চিমপাড়ায় বাবার বাড়ীতে আশ্রয় নেন রাবেয়া। অন্ধ বাবা আঙ্গুর আলীও অভাবী, অন্য দুই মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকুরী করে। স্বামীর অগোচরে কিছু কিছু করে টাকা পাঠায় তারা। এভাবে চলে আঙ্গুরের সংসার। যে মাসে টাকা পাঠায় না, সে মাসে অনাহারে থাকতে হয় তাদের। এর মধ্যে ৪ সন্তানসহ রাবিয়া বাবার সংসারে দিনে এক বেলা খেয়ে চলে আসলেও, এনজিও তাদের পিছু ছাড়েনি। ঋণ থেকে বাঁচতে নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হন রাবিয়া। ৭ মাসের অন্তঃসত্বা রাবিয়া নিজের নিঃসন্তান বোন দিলারী বেগমের নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তার অনাগত সন্তান। ইতোমধ্যেই ৫ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছেন তিনি। বাকী টাকা সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে রাবেয়া বলেন, দুনিয়ার সব থেকে কঠিন কাজ হলো নিজের সন্তান বিক্রি করা। কিন্তু কি করব, উপায় নেই। স্বামীও নিরুদ্দেশ হওয়ায় ছেলে মেয়েদের ৩ বেলা খাবার দিতে পারি না। এদিকে এনজিও থেকে লোক এসে জেলের ভয় দেখায়, বাধ্য হয়েই সন্তান বিক্রি করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, অভাবের তাড়নায় অনাগত সন্তান বিক্রির ঘটনা মর্মান্তিক। ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষনিভাবে রাবিয়ার সাথে যোগাযোগ করে তার বাসায় গিয়েছি। রাবেয়া সন্তান বিক্রির বিষয়টি আমাকে জানায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে তাৎক্ষনিক ১৫ হাজার টাকা অর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে মাতৃত্বভাতা, গর্ভকালীন ভাতাসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।

error: Content is protected !!