রবিবার , অক্টোবর ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-লাওস


খেলাধুলা ডেস্ক

সিলেটে আজ বিকেলে পর্দা উঠছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসরের। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ানশিপ ২০১৮ বাংলাদেশের জন্য একটা দুঃসহ স্মৃতি। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে জিতেও সেমিতে উঠতে পারেনি লাল-সবুজের দল। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সেই হতাশা ভুলতে চায় ছেলেরা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পঞ্চম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে লাওসের। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

ছয় জাতির এ টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিচ্ছে লাওস, ফিলিস্তিন, নেপাল, ফিলিপাইন ও তাজিকিস্তান। এ পাঁচ দলই র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে রয়েছে। তবে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকেই ফেবারিট মানছেন কোচ জেমি ডে।

ম্যাচকে সামনে রেখে রোববার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডে এ কথা জানান। সাথে ছিল অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। জেমি ডে আরো বলেন, ‘সাফে আমাদের ছেলেরা ভালো খেলেছে। তবে ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। তাই সাফে কি হয়েছে আমরা সেটি ভুলে যেতে চাই। এটি একটি নতুন টুর্নামেন্ট। আশা করছি ছেলেরা ভালো করবে।’

লাওসের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ ‘কঠিন ম্যাচ’ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা টুর্নামেন্ট জিততে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য। তবে এটা সহজ হবে না। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সতর্ক রয়েছি।’ তিনি দলের স্ট্র্রাইকার হিসেবে মতিন মিয়া ও সুফিলের প্রশংসাও করেন।

মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘স্বাগতিক হিসেবে আমরা ফেবারিট। দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় যোগ হওয়া এবং সাদের না থাকা দলের জন্য একটু ক্ষতির হলেও যারা বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়েছেন তারা নিজেদের প্রমাণ করেই এসেছেন। আমাদেরকে জিততে হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

তবে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচে ‘কিছু চাপ’ থাকার কথা স্বীকার করলেও এই চাপে থাকাকে ফুটবলেরই অংশ বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখলেও ‘ভালো কিছু করার’ চেষ্টা করবে লাওস। এমনটি জানিয়েছেন দলটির কোচ মাইক উন মুন হেন ও দলনেতা টিনি বোমালিয়া।

মাইক উন মুন হেন বলেন, ‘স্বাগতিক হিসেবে ম্যাচে বাংলাদেশ ফেবারিট থাকবে। কারণ তারা দর্শকদের সমর্থন পাবে। তবে আমাদের দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলবে এবং দারুণ লড়াই হবে।’

‘থাইল্যান্ড প্রিমিয়ার লিগে খেলার কারণে লাওস জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ তিনজন খেলোয়াড় দলের সাথে আসতে পারেননি। সেখান থেকে ছুটি না পাওয়ায় তারা এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না। তবে এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। খেলার পুরোটা সময় যে দল ভালো খেলবে তারাই ম্যাচ জিতবে’।

কোচের কথার সাথে মিল রেখে দলনেতা টিনি বোমালিয়াও জানালেন, খেলায় সেরাটা দেবে তার দল।

ছয় জাতির এ টুর্নামেন্টে দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত খেলায় গ্রুপ ‘এ’-তে ফিলিস্তিন, নেপাল এবং তাজিকিস্তান, গ্রুপ ‘বি’-তে স্বাগতিক বাংলাদেশ, ফিলিপাইন এবং লাওস অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বের সবকটি খেলা ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে লাওস। ২ অক্টোবর একই সময়ে নেপাল মুখোমুখি হবে তাজিকিস্তানের। এছাড়া ৩ অক্টোবর লাওস বনাম ফিলিপাইন, ৪ অক্টোবর তাজিকিস্তান বনাম ফিলিস্তিন, ৫ অক্টোবর ফিলিপাইন বনাম বাংলাদেশ ও ৬ অক্টোবর ফিলিস্তিন বনাম নেপালের মধ্যাকার খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

তাছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর কক্সবাজারে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে দুটি সেমিফাইনাল এবং ১২ অক্টোবর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ