মঙ্গলবার , ডিসেম্বর ১১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে আলোক ফাঁদ


সহিজল ইসলাম, রাজীবপুর, কুড়িগ্রাম
সীমান্তবর্তী উপজেলা কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সব ধরনের ফসল কম-বেশি উৎপাদন করে। এখানকার কৃষকরা ধান চাষও করে উল্লেখ যোগ্য পরিমানে। চলতি আমন মৌসুমে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে উপজেলার ৯টি ব্লকে একযোগে আমন ধানের জমিতে আলোক ফাঁদ স্থাপন করে ক্ষতিকর পোকা নির্ণয় করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই আলোক ফাঁদ কর্মসূচি পালন করা হয়। সন্ধ্যায় উপজেলার কৃষকের জমিতে আলোক ফাঁদের স্থাপন করে জমিতে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও করণীয় সমন্ধে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি ও ধারণা দেওয়ার জন্য ওই আলোক ফাঁদ স্থাপন করে কৃষি বিভাগ। আলোক ফাঁদ স্থাপনের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। রাজীবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুমার প্রণয় বিষাণ দাস জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চলতি আমন মৌসুমে ধানের ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের মাঝে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তি ব্যবহারে করে পোকা দমন করতে এসব আলোক ফাঁদ স্থাপন করে জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করা হচ্ছে। রাজীবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আলোক ফাঁদ’ ফসলের একটি জৈবিক বালাইনাশক প্রযুক্তি এর মাধ্যমে ধানের জমিতে খুঁটি পুঁতে হ্যাজাক, চার্জার লাইট অথবা বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে তা ঝুলানো হয়। আলোর নিচে একটি পাত্রে সাবান মিশ্রন পনি রাখা হয় আলোতে আকর্ষণ হয়ে ফসলের পোকামাকড় চলে আসে এবং পাত্রে রাখা পানিতে পরে মারা যায়। এভাবে জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি জানা যায় এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করে ফসল রক্ষা করা যায়। ক্ষতিকর পোকার আক্রমন বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। রাজীবপুর ইউনিয়নের কাচানীপাড়া ব্লকের আলোক ফাঁদ স্থাপনের সময় কথা হয় কৃষক মঞ্জরুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন, প্রায় দুই বিঘা জমিতে ধান লাগাইছি। আলোক ফাঁদ দিয়া দেখলাম জমিত কোন ক্ষতিকর পোকা নাই। একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বলেন কৃষি অফিস থেকি ট্রেনিং নিছিলাম ধানের জমিত পাখি বসার জন্য বাঁশের কঞ্চি ডাল দেই। বিষ দেওয়ার আগে এখন আলোক ফাঁদ দিয়া দেহি পোকা আছে না নাই তারপর বিষ দেই, এত আমাগোরে খরচ বাঁচে প্রয়োজন না থাকলে বিষ দেই না।