সোমবার , ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে মাদারগঞ্জের মৃতশিল্প, অন্য পেশায় ঝুকছে মৃতশিল্পীরা


হুমায়ুন কবির, স্টাফ করসপনডেন্ট, মাদারগঞ্জ
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১টি গ্রামের নাম পালপাড়া এই পালপাড়ার নামডাক দেশের বিভিন্ন জেলাতেও শোনা যায়। বর্তমানে পালপাড়া গ্রামটি বালিজুড়ী পৌর সভার প্রাণকেন্দ্র হিসাবেই বলা যায়। পালপাড়ায়
আগের দিনে গানবাজনা থাকত সকল পুজাঁ পার্বনে, কিন্তু এখন আর গানবাজনা শোনা যায় না। এখন তাদের পেটের ভাত জোগাড় করতে চোখের পানি নাকের পানি এক হয়ে যায়। এখন আর মাটির তৈরী জিনিস পত্র শেখের বেটিদের কাছে এক হামজা ধান নিয়ে মাটির কাঁসা বিক্রি করতে পারেনা মন্ডলের বেটার বউ। চাউল দিয়ে আর মাটির কলস নেয়না, যার কারনে সেই পাড়াতে ঠিক ভাবে পুজাঁ পার্বনে আনন্দ করা হয় না। এই জন্য তারা দিন দিন মাটির জিনিস তৈরী করা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। কেউ হোটেলে কাজ করছে কেউ ভ্যানগাড়ী চালাচ্ছে কেউ আবার মানুষের বাড়ীতে দিন মজুরের কাজ করে জিবিকা চালাচ্ছে।
বর্তমানে পালপাড়া গিয়ে দেখা যায় যে, তাদের থাকার ঘর তো দুরের কথা খাবারই নাই। তাদের ছেলে-মেয়েদের ভালো পোশাক দিতে পারেনা তার পরেও তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠায় প্রতিদিন। তাদের বড় আসা ছেলে-মেয়রা বড় হয়ে লেখাপড়া শিখে চাকুরী করবে। তখন আর তাদের সংসারে দুঃখ কষ্ট থাকবেনা। সেই আশাকে বুকে নিয়ে জিবনের সাথে যুদ্ধ করে সামানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মৃতশিল্পী রতুল কুমার পাল বলেন, দাদা মাটি আর আগের মত পাওয়া যায় না। এখন মাটি টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়। মাটি কিনে আনিয়া অনেক রকমের জিনিস তৈরী করিয়া বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারিনা, কারন বাজারে অনেক ধরনের প্লাস্টিকের জিনিস পত্র পাওয়া যায়। মানুষ আর মাটির তৈরী জিনিস কিনতে চায়না। সেই কারনে আমরা আর ভালোভাবে চলতে পারিনা। অনেক আশা করে মাটি দিয়ে মনের মত করে মাটির নৌকা, মাটির পাতিল, হাড়ি, কলস, হাতী, ঘোড়া বানিয়ে তা আবার রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে রং লাগিয়ে বাজারে নিয়ে বিক্রি করার জন্য কিন্তু বিক্রি করতে যখন না পায় তখন আর নিজের মনকে বুঝাইতে পারেনা, তখন মনে হয় এই পেশা বাদ দিয়ে অন্য কিছু করব। কিন্তু আবার মনে হয় বাপ-দাদার পেশা বাদ দিয়ে কি করিব। অনেক কষ্ট সহ্য করার পরেও বাপ-দাদার ব্যবসা ধরে রেখেছি। মৃতশিল্পী রকুল কুমার পালের স্ত্রী মৃতশিল্পী দেবী রানী পাল বলেন, দাদা আমরা জিবনে অনেক কষ্ট করে স্বামির সংসার করে খাচ্ছি, অনেক সময় ঠিকমত পেটের ভাত জোগাড় করতে পারিনা। আগের মত আর মাটির তৈরী জিনিস পত্র বিক্রি হয়না। তার পরেও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাইতে হবে আমরা যত কষ্টই করিনা কেন ছেলে মেয়েদেরকে মানুষের মত মানুষ করতে চাই। দাদা আমরা অনেক দিন না খেয়ে থাকতে পারি কিন্ত ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে থাকতে পারেনা। তখন তাদের খাবার যোগাড় করার জন্য বিভিন্ন মহাজনের কাছে চড়াসুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়। আমি আমার স্বামির পাশাপাশি মাটি দিয়ে অনেক ধরনের জিনিস তৈরী করে বাজারে বিক্রি করিয়া ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার যোগন দিচ্ছি। এখন আমরা মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিনিস পত্র তৈরী করিয়া মজুদ করিতেছি সামানে পূজার মেলা হবে মাদারগঞ্জে সেই মেলায় আমাদের মাটির তৈরী করা সকল জিনিস বিক্রি হবে সেই জন্য জিনিস তৈরী করার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাইতেছি। সরকার যদি আমাদের কিছু সহযোগিতা করে তাহলে আমরা এই মৃতশিল্পকে ধরে রাকতে পারব।

error: Content is protected !!