বৃহস্পতিবার , আগস্ট ২২, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

জামালপুরের তারাগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

এম আলমগীর, স্টাফ করসপনডেন্ট
জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নের ৪৫নং তারাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে একই স্কুলের পিয়ন আমজাদ হোসেন। এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের শ্রেণীকক্ষে। ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া স্কুল শিক্ষার্থী শ্রীবাড়ির সোহেল রাণা অটো ড্রাইভারের কন্যা। ঘটনার ৭দিন পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার কোন বিচার পাইনি। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও এলাকার যুব সমাজের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষার্থীর পিতা সোহেল রানার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি বলেন ঘটনাটি সত্য। তবে আমি এ বিষয়ে আপনাদের কিছুই বলবো না। আমার চাচা আছে তার কাছ থেকে জেনে নিন বলে ফোন কেটে দেয়। এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া সেই স্কুল ছাত্রী অপর একটি ছাত্রীর সাথে স্কুলে আসে। স্কুলের পিয়ন আমজাদ তাকে শ্রেণী কক্ষ ঝাড় দিতে বলে। এমতাবস্থায় পিয়ন আমজাদ হোসেন দোকান থেকে তাদের দু’জনের জন্য দুটি বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে আসে। ছোট মেয়েটিকে আমজাদ বিস্কুটের প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে দূরে যেতে বলে। ছোট মেয়েটি দূরে চলে গেলে আমজাদ ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটির হাতে বিস্কুটের প্যাকেট তুলে দিতেই তার হাত ধরে ফেলে। আজমাজ মেয়েটিকে ভয় দেখিয়ে তার শরিরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়ে উত্যক্ত করে এবং মেঝেতে ফেলে দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে মেয়েটির চিৎকার করতে থাকলে আমজাদ তাকে ছেড়ে দেয়। সেই দিনের পর থেকে ভয়ে মেয়েটি স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। মেয়েটির বাবা-মা স্কুলে যাওয়ার জন্য জোর করলে মেয়েটি স্কুলে না আসার ঘটনাটি খুলে বলে তার বাবা-মার কাছে। মেয়েটির বাবা-মা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাসহ আমাদের ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি অবহিত করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কামরুন্নাহার সিদ্দিকি বলেন, মেয়েটির বাবা-মা আমার কাছে এ ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেছেন। আমি তাৎক্ষনিক বিষয়টি স্কুলের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, অভিভাবক সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বলেছি। তারা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা শিক্ষকরাও এর সঠিক বিচার চাই।
তারাগঞ্জ বাজার যুবসমাজ প্রতিনিধি হীরা বলেন, এ ঘটনাটি সত্য। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় স্কুলের পিয়ন আমজাদের কঠিন বিচারের বিষয়ে স্থানীয় এলাকার সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ও ইউপি সদস্যবৃন্দ তারাগঞ্জ বাজারে দফায় দফায় সালিশি বসিয়েছেন, সালিশিতে তারা যুব সমাজসহ এলাকার সকলকে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার ৭দিন অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে সালিশির নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে আর কোন কথা বলছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিয়ে সবকিছু মিট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার প্রভাবশালীরা টাকা খেয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওায়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর সঠিক বিচার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই, যাতে করে এমন নেক্কারজনক ঘটনা আর কেউ করতে সাহস না পায়। এ বিষয়ে পিয়ন আমজাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আমজাদ পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। স্থানীয়রা এই ঘটনার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এর সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছে।

error: Content is protected !!