মঙ্গলবার , ডিসেম্বর ১১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সেই দিনের অন্যরকম একটি সকাল


লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলামপুর
সেই দিনের অন্যরকম একটি সকাল, গ্রামের পথ ধরে আমি আমার শ্বশুরবাড়ীর ফুফু, দেবর, ভাতিজাদের সাথে হাটছি আর গ্রামের মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করছি। হঠাৎ নিতান্তই সাদাসিধে গ্রামের এক মহিলা প্রায় পাঁজর বেঁধে আন্তরিকতায় উপচে পড়া ভালোবাসা নিয়ে তার টিনের দুচালা ঘরে চিলের মত এক পলকের সময়ের ব্যবধানে তার ঘরের চৌকিতে অতি আদরে বসিয়ে দিলো।

ঘরে ঢুকতেই দেখি মাটির সেঁতসেঁতে গন্ধ জড়াজীর্ন একটি আলোকিত মাটির ঘর, কিন্তু দরজা নেই, টিনের মাটির ঘরটি ৭০ ভাগের মত তৈরী করেছেন, খড় দিয়ে কয়েক জায়গায় ঝাপ্টা দেওয়া। অনেক জায়গা খোলা, একপাশে এখনো কয়েকটি টিন লাগানো হয়নি। রোদ আর বৃষ্টির পানি চলে আসে ঘরে, মেঝেতে চেয়ে দেখি অপুষ্টিজনিত রোগে ভোগা তার ৫০-৫২ বছর বয়স্ক স্বামী। তার বৃদ্ধ মা, যার দু’চোখই অন্ধ, তিনি দুনিয়ার আলো দেখতে পাননা। তার ১৫-১৬ বছর বয়সী ছেলে মাটিতে বসে সকালের খাবার খাচ্ছে।


তার মুখে আনন্দের হাসি আর মুখে বার বার বলে যাচ্ছেন ‘আজ আমার সাগাই (মেহমান), আফনে বেইন বেলা আইছেন, আফনের নহুল (সকালের নাস্তা) খাইয়েই যাইতে হবো, বলছে আর তৎক্ষণাৎ একটা মেলামাইনের প্লেটে হাত ডুবাইয়া ভাত বাড়ছে। বাটিতে স্বামী আর ছেলের রেখে দেওয়া অবশিষ্ট ভর্তাটুকু আমার সামনে ধরলো আর বলতে লাগলো ‘ও বউ আফনে হেলা কইরেন না আজ আমার বাড়ীর নহুল খাইয়েই যাইতে হবো’। আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা। আনন্দ আর কষ্ট দুইয়ের মিশ্রনে আমার চোখ টলমল করছিল। বাটি থেকে কচুর মুখির ভর্তা কিয়দ অংশ নিলাম, আমার ফুফু শাশুড়ীর নামটা না বললেই নয়, শিউলী ফুফুকেও আরেকটা থালে অতি যত্নে দিলো।
ভাত মুখে দিচ্ছি আর স্বাদ অবলোকন করার ইচ্ছে আমার ছিলোনা, তবে জিহ্ববা টের পেলো শুধু শুকনো দুটো মরিচ আর লবণের সংমিশ্রনে এই ভর্তা, না আছে পিয়াজ, না আছে সরিষার তেল। আমি গিলতে থাকলাম, তার অন্তরের অতিথেয়তার চেয়ে দেখি সে তৃপ্তির হাসি হাসছে। তাদের জীবন গুলো প্রতিনিয়তই এমন, এই সেই গ্রামীণ হত দরিদ্র মানুষ। যাদের খাদ্য তালিকায় কোন অপশন থাকে না। এক বেলা নহুল খেয়ে আমি তার কাছে ঋণী হয়ে থাকলাম।


এক সময় যাদের শত শত বিঘা জমি ছিল, ঘর ছিল, পেট ভরে খাওয়ার রিজিক ছিলো। এখন তারা ভূমিহীন পরিবারে পরিণত হয়েছে। নদী ভাঙ্গনে এখন তাদের কিছু নেই বললেই চলে, সম্পত্তির ভিতরে আছে শুধু মাত্র একটি অসম্পূর্ন মাটির ঘর, একটি ভাঙ্গা চকি আর একটি টিনের ট্রাঙ্ক। আমাদের আশেপাশে এরকম অনেক অসচ্ছল মানুষ আছে যাদের কিছুই নেই, শুধু একটি সুন্দর মন আছে আপ্যায়নের আর ভালোবাসার। আমাদের মতো মানুষরাই ওদের ভালোবাসাকে মূল্যায়ন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। তাদেরকে সুযোগ করে দিতে পারি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই কথাগুলো, উপলব্ধি গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন, সাবিনা ইয়াছমিন, সদস্য, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জামালপুর জেলা শাখা।