শনিবার , আগস্ট ১৮, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

লম্বোক ভূমিকম্প: দুর্গত গ্রামে পৌঁছাতে মরিয়া চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত পর্যটন দ্বীপ লম্বোক থেকে আরও অনেক আহতকে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার ভোর থেকে নিখোঁজ জীবিত মানুষের খোঁজে ফের তল্লাশি শুরু করেছে তারা, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রোববারের ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, বহু গ্রাম ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে অনেকে আটকা পড়ে আছেন।

নিকটবর্তী পর্যটন দ্বীপ বালিতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেখানে দুই জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা।

টুইটারে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমণ সংস্থার (বিএনপিবি) মুখপাত্র সুতোপো পুর্বো নুগ্রোহো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ তন্ন তন্ন করে জীবিতদের খোঁজ করছেন উদ্ধারকারীরা।

পৃথক আরেক বিবৃতিতে বিএনপিবি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লম্বোকের উত্তরাঞ্চলে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নুগ্রহো জানিয়েছিলেন, সেতু ধসে পড়ায় কিছু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

লম্বোকের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা কারাংকাউহানের ৪৫ বছর বয়সী বাসিন্দা রিদুয়ান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণ না পাওয়ায় নিজের খাবার কিনে খেতে হচ্ছে তার।

নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি থেকে কিছু দলিল-দস্তাবেজ উদ্ধারের চেষ্টার সময় তিনি বলেন, “আমরা কিছুই পাইনি।”

রোববারের ভূমিকম্পের পর থেকে একটার পর একটা পরাঘাতে লম্বোক দ্বীপ বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আবহওয়া ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) । এসব পরাঘাতের মধ্যে একটি ছিল ৫ দশমিক ৫ মাত্রার, ভোররাত ২টার দিকে এটি অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৩০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে বিএমকেজির তথ্য থেকে জানা গেছে।

এর আগে ২৯ জুলাই লম্বোকে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১৭ জন নিহত হয়েছিল এবং দ্বীপটির একটি আগ্নেয়গিরির ঢালে ট্রেকিংরত কয়েকশত ট্রেকার আটকা পড়েছিল।

মঙ্গলবারও পর্যটকদের দ্বীপটি ছেড়ে যেতে দেখা যায়। পর্যটকদের কিছু অংশ সামরিক বাহিনীর বাসে ও বাকিরা পশ্চিম লম্বোক থেকে বালিমুখি ফেরিতে করে দ্বীপ ছেড়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লম্বোকের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের তিনটি গিলি দ্বীপ থেকে দুই হাজারেরও বেশি লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর এই দ্বীপগুলোতে সুনামির শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ার তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটকদের পাশাপাশি গিলির বাসিন্দারাও দ্বীপগুলো ছেড়ে যেতে চাইছে।

দ্বীপগুলোতে কতোজন পর্যটক আছেন সে বিষয়ে দাপ্তারিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দ্বীপগুলোতে হাজারখানেক পর্যটক আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বা প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার এলাকায় অবস্থান হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের এক সুনামিতে ইন্দোনেশিয়াসহ ১৩টি দেশে মোট দুই লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। এর মধ্যে ইন্দোনেশীয় ছিল এক লাখ ২০ হাজার জনেরও বেশি।

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম