সোমবার , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে চটে বসে পাঠদান মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের : ২৮ বছরেও ছোঁয়া লাগেনি উন্নয়নের


সিনিয়র স্টাফ করসপনডেন্ট, সরিষাবাড়ী
দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মুন্সি মোহাম্মদ আলী ইবতেদায়ী (স্বতন্ত্র) মাদ্রাসা। অর্থ সংকটের ফলে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মাটিতে চটে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে আসছে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনেও মাদ্রাসাটির প্রতি নজরে আসেনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের কোন নেতাদের। উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরবর্তি পিংনা দক্ষিণ পাড়া এ মাদ্রাসাটি।
সরেজমিনে জানা যায়, পিংনা পশ্চিম পাড়া নদী ভাঙন এলাকা ৬টি গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। ১৯৯০ সালে স্থানীয় মুন্সি মোহাম্মদ আলী তার নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয় মাদ্রাসাটি। ২০০৫ সালে যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে সম্পূর্ন রূপে বিলীন হয়ে যায় জমিসহ মাদ্রাসা। এতে নদী ভাঙন এলাকার ৬টি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে পিংনা দক্ষিণ পাড়া স্থানান্তর করে এবং মাদ্রাসার নামে ২৫ শতাংশ জমি দান করে ফের মুন্সি মোহাম্মদ আলী ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চালু করেন পিংনা সুজাত আলী কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুল হাসান সাইদ। এমপিওভুক্ত এ মাদ্রাসাটিতে একজন প্রধান শিক্ষক ও ৩ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ৪ জন শিক্ষক প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫০ জন শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে আসছেন। ফলাফলের দিক থেকে উপজেলার অন্যান্য ইবতেদায়ী মাদ্রাসার চেয়ে পাসের হার অনেক গুনে ভাল বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাইদুল হাসান সাইদ জানান, মাদ্রাসাটি টিনের চার চালা ঘর জানালা দরজা করা হয়নি ফাঁকা রয়েছে। দীর্ঘদিনও সরকারি কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় অবহেলিত ভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার হাত বদল হলেও মাদ্রাসাটির ওপর নুন্যতম উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মাদ্রাসার অর্থ সংকটের ফলে ক্লাস রুম গুলোতে শিক্ষার্থীদের বসার ব্রেঞ্চ নেই। মাটিতে চটে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষকের একটি প্লাষ্টিক চেয়ার, ভাঙা একটি পুরনো ছোট টেবিল ছাড়া কিছুই নেই। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে টিউবওয়েল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন বলেন, এমন অবহেলিত মাদ্রাসাটির কথা কেউ তাকে বলেনি। তবে দেখে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: Content is protected !!