সোমবার , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

মেলান্দহে ইউপি সচিবকে কারাগারে প্রেরণ


শাহীন আলম, স্টাফ করসপনডেন্ট, মেলান্দহ
জামাপুরের মেলান্দহের বহুল আলোচিত সেই ইউপি সচিব মিজানুর রহমান (৩২) কে অবশেষে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মিজানুর রহমান তেলীপাড়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে। তিনি ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের সচিব। ৬ আগস্ট জামালপুর কোর্টে কলেজ ছাত্রী আরিফাকে বিয়ের কথা অস্বীকার সংক্রান্ত মামলার জামিন চাইতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট নিস্কৃতি হাগিদগ জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ইউপি সচিব মিজানুর রহমান গত বছর ৩০ মে ঝাউগড়া গ্রামের আলতাফুর রহমানের কলেজ পড়–য়া মেয়ে আরিফা আক্তারকে (১৯) কে সামাজিক-ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেন। কিছুদিন দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর মিজান বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে। বিয়ের সময় আরিফা আক্তারের জন্ম সনদ অনুসারে বিয়ের বয়স ১৮ বছর হলেও এসএসসি পাশের সনদে বিয়ের বয়স এক বছর বাকি থাকে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সিদ্বান্ত অনুযায়ী এসএসসি পাশের সনদ অনুযায়ী একবছর পর বিয়ে রেজিস্ট্রি করবে। তার আগে সামাজিক-ধর্মীয় রীতিতে মুন্সী দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়।
বিয়ের পর মিজান তার স্ত্রী আরিফাকে নিয়ে জামালপুরে এক ভাড়াটে বাসায় থাকাকালে আরিফার কাছে ৫ লাখ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আরিফার পিতা মিজানকে ২ লাখ টাকা দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রির কথা বলে। টাকা গ্রহণের এক সপ্তাহ পর মিজান আরিফাকে বিয়ের কথাই অস্বীকার করেন। এতেই শেষ নয়, মিজান ঝাউগড়ার টুপকারচরের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জাহেদা খাতুনকে তিন লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আরেক বিয়ে করেন।
এনিয়ে কয়েক দফা গ্রাম্য সালিশ হয়। সালিশে আরিফার দেয়া ২লাখ টাকা ফেরত দিয়ে আরিফাকেই তালাক দিতে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আরিফা তালাক না দেয়ায় মহিরামকুল গ্রামের মাতাব্বররা আরিফার নানা নূরুল ইলাম (৭০)কে আটক রেখেছে।
এ বিষয়ে আরিফা আক্তার জেলা প্রশাসক এবং এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন (এসিএমবিএফ) সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৩০/৩২ জন লোকের সাক্ষ্য গ্রহণে মিজানের সাথে আরিফার বিয়ে প্রতীয়মান হয়। এরপরও কোন সুরাহা না হওয়ায় এসিএমবিএফ’র সহায়তায় ৯ জুলাই জামালপুর কোর্টে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। মামলায় বিজ্ঞ আদালত ওয়ারেন্ট জারি করে। মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবি ছিলেন এপিপি এড. মঞ্জুরুল কবির এবং বাদি পক্ষের আইনজীবি ছিলেন এড. গোলাম নবী। মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর আদালত ইউপি সচিব মিজানুর রহমানকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

error: Content is protected !!