বুধবার , আগস্ট ২১, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাজধানী কারাকাসে সামরিক বাহিনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরো। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে হামলার পর সেনা সদস্যরা ছোটাছুটি শুরু করে। ঘটনায় সাত সেনা সদস্য আহত হয়েছে জানিয়েছে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী জর্জ রদ্রিগেজ বলেছেন, এই হামলা প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো। হামলার জন্য দেশটির ডানপন্থী বিরোধীদলকে দায়ী করেছেন তিনি।
সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, খোলা মাঠে সামরিক বাহিনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে প্রেসিডেন্ট ও অন্য কর্মকর্তারা হঠাৎ করে উপরের দিকে তাকিয়ে সচকিত হয়ে ওঠেন। সেই সময়ে বন্ধ হয়ে যায় টেলিভিশনের অডিও। ছোটাছুটি শুরু করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সেনা সদস্যরা। বড় ধরণের বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় সেই সময়ে।

রদ্রিগেজকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, বিস্ফোরক ভর্তি দুটি ড্রোন প্রেসিডেন্ট মঞ্চের কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যায়।

হামলার জন্য ডানপন্থী বিরোধেী দলকে দায়ী করেন যোগাযোগমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনে হারার পর এবারও তারা হেরে গেল। হামলার পর আহত সেনা সদস্যদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী রদ্রিগেজ জানিয়েছেন হামলার পর প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রীসভার সদস্য ও সামরিক বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে দায়ী করা হলেও কোনও গ্রুপই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গত মে মাসে ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে পরবর্তী ছয় বছরের জন্য আবারও নির্বাচিত হন মাদুরো। নির্বাচনে জালিয়াথির অভিযোগ উঠলেও দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন তিনি।

২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের ওপর একটি হেলিকপ্টার থেকে গ্রেনেড ফেলার ঘটনা ঘটে। অস্কার পেরেজ নামে এক হেলিকপ্টার চালক দাবি করেন তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলাবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কারাকাসের কাছে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।

বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাবেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন তার ঘনিষ্ট সহচর নিকোলাস মাদুরো। চাবেজের মতো তাকে ঘিরেও বিভক্ত মতামত রয়েছে দেশটিতে।

প্রথমবার ক্ষমতা নেওয়ার পর মাদুরোর বিরুদ্ধে গণতন্ত্র খর্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ করে থাকেন। অন্যদিকে তার অনুসারীরা বলে থাকেন, মাদুরো দেশকে সেনা অভ্যুত্থান থেকে রক্ষা করছেন।

গত মে মাসে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তেল সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। তবে দেশটিতে এখনও অনেক মানুষ মাদুরো ও তার দল ইউনাইটেড সোস্যালিস্ট পার্টির (পিএসইউভি) প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছে। দলটি বলে আসছে ভেনেজুয়েলার সঙ্কট সরকারের তৈরি নয় বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর তৈরি।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

error: Content is protected !!