মঙ্গলবার , আগস্ট ২০, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

চিকিৎসা বঞ্চিত স্কুলছাত্র কৃষ্ণ ঘোষ

শাহীন আলম, স্টাফ করসপনডেন্ট, মেলান্দহ
জামালপুরের মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশু কৃষ্ণ ঘোষ (১৩) চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মেঘারবাড়ি গ্রামের সনাতন ধর্মের হতদরিদ্র সাগর ঘোষের ছেলে কৃষ্ণ ঘোষ। সে কলাবাধা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। এক মাস আগে কৃষ্ণ ঘোষ সরিষাবাড়ি খালাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত সিএনজির চাকা খসে পড়লে দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ের কয়েকস্থানে ভেঙ্গে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারিরা আহত কৃষ্ণকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ অবস্থায় বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য পরামর্শ দেয় ডাক্তাররা। এই পরিক্ষা-নিরিক্ষা এবং আনুসাঙ্গিক মেডিসিন ক্রয়ের ক্ষমতা নেই কৃষ্ণ পরিবারের। হাসপাতালে ড্রেসিং-ব্যান্ডেজ ছাড়া কোন চিকিৎসা পায় নি বলে কৃষ্ণ পরিবারের অভিযোগ। ডাক্তারা প্রাইভেট চিকিৎসা নেয়ার জন্য পরামর্শ দিলে হতাশ হয়ে পড়েন কৃষ্ণের বাবা সাগর ঘোষ। ইতোমধ্যেই কৃষ্ণের পায়ে পচন ধরে যায়। ডাক্তারা পচন রোধের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় কৃষ্ণকে। সব মিলিয়ে হাসপাতালে সবধরণের চিকিৎসা না পেয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হয় কৃষ্ণের পরিবার। প্রাইভেট চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার দরকার, কিন্তু তার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
কৃষ্ণের বাবা সাগর ঘোষ জানান, এ যাবৎ ছেলেকে নিয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ৭ বার গিয়েছি। প্রাইভেট চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু প্রাইভেট চিকিৎসা নেয়ার মতো সাধ্য নেই হতদরিদ্র সাগর ঘোষের। সাগর ঘোষ সনাতন ধর্মের লোক বলে সব কাজে তাকে নিতে চায় না। তিনি এক হোটেলে থালা-বাসন পরিষ্কার করার কাজ করেন। এতে তিনি দৈনিক মজুরী পান ১৫০ টাকা। সবসময় শুধু পানি-সাবান দিয়ে বাসন পারিস্কারের ফলে হাতে ঘা-হয়ে যায়। তখন অবসর থাকতে হয়। কোন কোন দিন অন্যজনে কাজ করলে তাকে নেয়া হয় না। ওই দিন অনাহারে-অর্ধাহারেই কাটাতে হয়। অনাহারে থাকার খবর জানার পর পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মুকুল প্রায়ই সাগর ঘোষকে বাজার করে দেন। এভাবেই তিনি পরিবার নিয়ে দিনাতি পাত করেন।
বাড়ির ভিটা না থাকায় মহাসড়কের পাশে মেঘারবাড়িতে জীর্ণ কুঠিরে অবস্থান করছেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য বহু মানুষের কাছে ধর্না দিয়েছেন। তিনি দু:খ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে ধর্না দিলে তিনি মাত্র ১০টাকা দিয়ে বিদায় করে দেন। আবার নিজ ধর্মের অনেকেই তার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। এ অবস্থায় সাগর ও তার স্ত্রী ফুলমতি ঘোষ স্রষ্টার কাছে কান্নাকাটি করে চলেছেন। অবস্থা বেগতিক দেখে মেলান্দহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কৃষ্ণকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে অন্তত: খাবার এবং ড্রেসিং করাচ্ছেন। সময়মত চিকিৎসা নাদিলে কৃষ্ণ ঘোষকে বাঁচানো কঠিন হবে। এখন কৃষ্ণকে বাচাতে তার পরিবার সমাজের বিত্তবান-দানবীর এবং সরকারের কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করছেন।

error: Content is protected !!