মঙ্গলবার , আগস্ট ২০, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের ৪ দিন পরও আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ


জুয়েল রানা, স্টাফ করসপনডেন্ট
জামালপুরে চুরিকৃত গরু উদ্ধারের ৪ দিন কেটে গেলেও গরু চোরদের বিরুদ্ধে অজানা এক রহস্যের কারণে এখনও পর্যন্ত আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়নি নারায়নপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। আর এলাকায় পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি ম্যানেজ এর খবর ছড়িয়ে বীর দর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে চোর সিন্ডিকেট। এ ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার ১৩নং মেষ্টা ইউনিয়নের দেউলিয়াবাড়ী গ্রামে।
গত রবিবার ২৯ জুলাই সাংবাািদকদের কাছে ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাতের আধারে পিকআপ ভ্যানে করে একটি বড় ষাড় গুরু ও ২টি গাভী গরু দেউলিয়াবাড়ীর ইন্নত আলীর ছেলে ফরহাদের বাড়ীতে লুকিয়ে রেখেছে ইন্নতের ছেলে ফরহাদ, নুর ইসলাম ওরফে গুইদাগেদার ছেলে সোহেল ও সুমন। এমন খবরের সত্যতা খুজতে ইন্নত আলীর ছেলে ফরহাদের বাড়ীতে উপস্থিত সাংবাদিকরা বাড়ীর উঠানে গরু রাখার সত্যতা পান। কথা হয় বৃদ্ধ ইন্নত আলীর সাথে, গরু চুরির বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ছেলে ফরহাদ ও নুর ইসলাম ওরফে গুইদাগেদার ছেলে সোহেল ফরহাদের ঘর থেকে বের হয়ে চুরির বিয়ষটি যাতে কোন ভাবেই সাংবাদিকরা ফাস না করে তার জন্য সাংবাদিকদের ঘরে ডেকে নিয়ে টাকা দিয়ে ম্যানেজ এর চেষ্টা করে। তাতেও কোন কাজ না হলে মোবাইল ফোনে এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে চেষ্টা করে ফরহাদ ও সোহেল। পরবর্তীতে নারায়নপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই গরুচোর সিন্ডিকেটের ইশারায় একটি মহল ইন্নত আলীর বাড়ী থেকে গরু ও চোর সিন্ডিকেটকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে মেষ্টা ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় পুলিশ গরু উদ্ধার করে নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে। অন্যদিকে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী সুজা উদ্দিনের কাছে ৬৫ হাজার টাকায় ষাড় গরুটি বিক্রি করেন ফরহাদ ও সুমন।


উদ্ধারের ৪ দিন কেটে গেলেও চোরদের গ্রেফতার করতে পারে নি নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ। তবে এলাকার লোকজন জানায়, চোর সিন্ডিকেট পুলিশকে মোটা অংকের উৎকোচ প্রদান করে এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বলছে কে কি করতে পারলো। বুধবার মুঠোফোনে এ বিষয়ে নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এসআই হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা গরু গুলোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় বার্তা পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে এসআই হারুনুর রশিদ জানান, গরুগুলো আদালতে পাঠানো হবে।
তবে পুলিশের এসব বুলির কোনটি সঠিক না বলে মেষ্টা এলাকাবাসী জানান। তারা বলছে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে পুলিশ সময় পার করে যাচ্ছে। অপর দিকে সমঝোতার জন্য মেষ্টার একজন ইউপি সদস্য দৌড়াচ্ছে বলে জানান নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ।

error: Content is protected !!