বৃহস্পতিবার , আগস্ট ২২, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ॥ তদন্ত কমিটি


মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করলেন তাঁরই আরেক বন্ধু কর্মকর্তা! সোমবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনেই প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এনামুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মিত অফিসে বসে দায়িত্বে অবহেলা ও ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসে জামালপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়। পরে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সোমবার সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মন্তাকিন মাহমুদ সাদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও চিকিৎসকদের ডেকে সাক্ষাতকার নেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দায়মুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও চিকিৎসকদের জড়িয়ে নোট করেন। তদন্ত চলাকালে সাংবাদিকদের সামনেই অভিযুক্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘তুই/তোর’ বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে সংশয় দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তার বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ট সম্পর্ক। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মন্তাকিন মাহমুদ সাদি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এনামুল হক আমার পূর্বপরিচিত। তবে সে জন্য পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। তদন্তের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পেলেই সিভিল সার্জনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এনামুল হক অফিস বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসা বানিজ্য ও নানা অনিয়মের জড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালের অবস্থা নাজুক। হাসপাতালে অপরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসক সঙ্কট, অপারেশন থিয়েটার, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন বন্ধ এবং জেনারেটর নষ্ট থাকায় স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। কিছুদিন পানির পাম্প অচল থাকায় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া রবিবার দুপুরে আন্তঃবিভাগের ভর্তিকৃত রোগীদের খাবারও দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় বলেন, সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কিছু বিষয়ে আমি শুনেছি। বিষয়গুলো দুঃখজনক। তবে তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই হবে। এ ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখব।

error: Content is protected !!