শনিবার , আগস্ট ১৮, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

টাঙ্গুয়ার হাওরে দেড় দশকেও গড়ে উঠেনি ইকো ট্যুরিজম সুবিধা : সুরক্ষিত হয়নি পরিবেশ-প্রকৃতি


হাবিব সরোয়ার আজাদ
দেশী-বিদেশী লাখ লাখ পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের দৃষ্টি এখন রামসার প্রকল্পভুক্ত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল জলরাশী এবং পরিবেশ-প্রকৃতির দিকে। কিন্তু গত দেড় দশক ধরে সংরক্ষণ মেয়াদে এ হাওরের আয়তন বাড়ালেও আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্রের অনন্য জলাধার টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র বৃদ্ধি পায়নি তেমনি ইকোট্যুরিজম সুবিধাও গড়ে উঠেনি অন্যদিকে সুরক্ষিত হয়নি হাওরের পরিবেশ-প্রকৃতি।’ এমন অভিযোগ টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী জনপদের লোকজনের এমনকি পর্যটকদেরও।
সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে শনিবার বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস পালিত হলেও টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ প্রতিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের নামে হাওরের বাস্তব চিত্র দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশী-বিদেশী পর্যটক-ভ্রমণ পিপাসুরা এমনকি নানা শ্রেণী পেশার লাকজন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে তাহিরপুরে কৃষক সমাবেশে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীব বৈচিত্র, পরিবেশ প্রকৃতি সুরক্ষা নিশ্চিত করে টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পতিত ভুমি, জাদুকাঁটা নদী সংলগ্ন বারেকটিলা কেন্দ্রীক একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজো আলোর মুখ দেখেনি।
হাওর তীরবর্তী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুমুখি ব্যবস্থাপনায় হাওরের গাছ-মাছ, স্থলজ ও জলজ উদ্ভিদ এমনকি অতীতের তুলনায় অতিথি পাখির আনাগোনা কমেছে বহুগুণ। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) এর তৃতীয় দফা মেয়াদ ২০১৬ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার পর ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় অভিভাবকহীন ছিল এই হাওরটি। ওই সময়ে আইইউসিএন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সমিতিগুলোর জবাবদিহিতা না থাকার সুযোগে অবাধে হাওরের মাছ, গাছ ও পাখি শিকার করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।


হাওর তীরের লোকজন জানিয়েছেন , ওই সময় বাফার জোনে আইইউসিএন গঠিত টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজভিত্তিক টেকসই সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রায় ৩০টি বিল মৌসুমী ইজারা দিয়ে গড়ে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের ব্যবস্থাপনার পর থেকেই টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলাধার (বিল) প্রতিদিন ঘণ্টাভিত্তিক ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকার মৎস্য আহরণ করা হত।
২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১৬ মাসের একটি প্রকল্পে এখন হাওরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি তহবিলে পরিচালিত এই প্রকল্পেও কারিগরি সহায়তার নামে বাস্তবায়নে জড়িত আছে আইইউসিএন।
সুনামগঞ্জের ইরা ও সিএনআরএস নামের দুটি এনজিও বর্তমানে এই প্রকল্পে ৭৪টি গ্রামের মধ্যে হাওরের কাছাকাছি ৪০টি গ্রাম বাছাই করে সমবায় সমিতি করছে। তবে এর আগে আইইউসিএন প্রতিটি গ্রামে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি করে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও সেই কমিটি গুলো এখন বিলুপ্ত।
হাওরবাসীর অভিমত পুরনো কমিটি সচল রেখে সমবায় সমিতি গঠন করলে এখন নতুন করে সমিতি গঠনের প্রয়োজন ছিলনা এবং তহবিল নিয়েও কোন সমস্যা হতানা। নতুন সমিতি গঠন করা হলে তহবিল সংকটসহ নানা জটিলতায় পড়বে সংগঠনটি।
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ বেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার জলসীমায় টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থান। ১৯৯৯ সালে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণার পর ২০০০ সালে হাওরটি ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
২০০৩ সালে হাওরটি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় দাতা সংস্থা এসডিসি’র অর্থায়নে আইইউসিএনকে সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করে। ২০১৬ সালে আইইউসিএন’র তিনদফা সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হয়েছে। রামসার নীতিমালা বাস্তবায়নে হাওরের জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, হাওরে সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা, হাওরের উপর নির্ভরশীল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে আইইউসিএনকে ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়েছিল। তিন দফার পুরো ব্যবস্থাপনাই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জীববৈচিত্র রক্ষা ও সংরক্ষণের নামে ওই সময়ে অবাধে মাছ ধরা, হিজল-করচ গাছ কর্তন, অতিথি পাখি শিকারসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনায় টাঙ্গুয়ার জীববৈচিত্র নষ্ট হয়েছে বলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিস্তর অভিযোগ উঠে।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে হাওরটির আয়তন ৯ হাজার ৭২৭ হেক্টর ছিল। ২০১৬ সালের সর্বশেষ জরিপে হাওরটির আয়তন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। আগে হাওরের সীমানা চিহ্নিত না হলেও গত বছর ১৪৪টি সীমানা পিলার বসিয়ে হাওরের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
২০১৫ সালে আইইউসিএন টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্রের রেডডাটা বুক জরিপ থেকে জানা যায়, এই হাওরটিতে বর্তমানে ১৩৪ প্রজাতির মাছ, ১৯ প্রজাতির স্থন্যপায়ী প্রাণী, ২১৯ প্রজাতির দেশি-বিদেশী ও পরিযায়ী পাখি, ২৪ প্রজাতির সরিসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং ১০৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। হাওরে ১০৯টি জলাশয় কাগজে-কলমে থাকলেও ৫২টি জলাশয়ের অস্থিত্বের কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই জলমহালগুলো আইইউসিএন মৌসুমী ইজারা দিয়ে সমিতির মাধ্যমে বছরে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করতো। বাফার জোনে (শুকনো অঞ্চল) প্রতি বছর ৩০টি জলাশয়ে যে মৎস্য আহরণ করে কেন্দ্রীয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ৭৬ ভাগ টাকা নিজেরা বণ্টন করে নিয়ে যায়। নিবন্ধিত ওই সমিতিটির নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ। টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা যে কমিটি করা হয়েছে সেটাতেও সাধারণ মানুষের সমর্থন নেই। প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের ইচ্ছায় এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে ব্যবস্থাপনার পর থেকেই একজন নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট পালাক্রমে (১৫দিন) কমিউনিটি গার্ড, আনসার নিয়ে হাওর প্রহরা দেন। বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে নিরাপক্তা কাজে সঙ্গ দেন ১৬ জন কমিউনিটি গার্ড, ২৮ জন আনসার।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, আইইউসিএন ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মীদের স্থানীয়দের সচেতন করে জীববৈচিত্র রক্ষা করার কথা। কিন্তু তারা হাওরপাড়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অবাধে মাছ ধরার সুযোগ দিয়েছে। চোরাই শিকারীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে পাখি ধরায়ও জড়িত তারা। জানা গেছে প্রকৃতি সংরক্ষণে প্রহরায় গিয়ে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি, আনসার ও কমিউনিটি গার্ডের লোভের কারণে কর্তব্যরত একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন হাওরে। ২০১০ সালের মার্চ মাসে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসের বেগ এর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনিসহ সাতজন আহত হন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে রাতে একইভাবে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমারের ওপর তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও এলাকায় হামলা চালানো হয়। ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফয়জুল ইসলামের ওপরও হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় কেন্দ্রীয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি গার্ড ও আনসারদের সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বিভিন্ন সুত্রে আরো জানা গেছে, গত ১৫ বছরে টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে সরকারের একশ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। এই সময়ে হাওরটি ইজারা দেওয়া হলে সরকারের প্রায় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসতো বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি গার্ড ও আনসার থাকার পরও প্রতিদিন লুট হচ্ছে হাওরের মাছ, গাছ সহ মূল্যবান সম্পদ, শিকার হয়েছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আইইউসিএন ব্যবস্থাপনায় আসার পর হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষায় কয়েক লাখ হিজল-কড়চ ও নলখাগড়া লাগানোর কথা বলা হয়েছিল। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে ইজারাদার প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীনের লাগানো হিজল-কড়চের বাগই হাওরে এখন পর্যন্ত লক্ষণীয়।
হাওরের তীরবর্তী লোকজন ধারণা পোষণ করেন, টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিশ্ব ঐতিহ্য। এর জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য সরকার বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু যারা রক্ষক তারা এখানে এসেই ভক্ষকে পরিণত হয়েছেন। গত ১৫ বছর ধরে হাওরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘণ্টাভিত্তিক ইজারা দিয়ে মাছ আহরণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বছরে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে কামাচ্ছে রক্ষকরা। নিবন্ধিত সমিতির ইজারার মাধ্যমে মাত্র যৎসামান্য টাকা সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি মূলত একটি পকেট কমিটি। হাওরপাড়ের সুবিধাভোগীদের তাতে লাভ নেই। মুষ্টিমেয় কিছু লোককে সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্টরা এই কমিটি করে জলমহাল ইজারা দিয়ে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি সংরক্ষিত হওয়ার কথা থাকলেও অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুরা হাওর তীরবর্তী গ্রামের লোকজনের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কারনে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন গত ১৫ বছরে সরকারের একশ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর সুরক্ষার নামে। বাস্তবে এই সময়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র কমেছে। পরিবেশ-প্রকৃতি বিনাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মালিকানা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও স্থানীয়দের দূরে রেখে মুষ্টিমেয় লোভী কিছু লোক তৈরি করে ভাগ-বাটোয়ারা করে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। একটি সম্ভাবনাময় বিশ্ব সম্পদ বহুমুখি কোপে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এখন হাওরের জীববৈচিত্র ও নান্দনিকতাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পে কাজ করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে হাওর তীরবর্তী সুবিধাবঞ্চিত এলাকার লোকজন।


তবে আশার কথা এই যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তদারকিতে থাকা টাঙ্গুয়ার হাওরের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করলে বর্তমান সময়ে দেখা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওর যেহেতু বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় আগে আইইউসিএন ব্যবস্থাপনায় ছিল। এখন সরকার নিজে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত, তবে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিচ্ছে আইইউসিএন। আগে সংরক্ষণের নামে অনিয়মের কিছু অভিযোগ ছিল। এখন সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাওরের ইকোলজি ও সার্বিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে সরকার। একদিকে প্রশাসন পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদেরও নানাভাবে সতর্ক করছে। অপরদিকে হাওরে অবৈধভাবে মাছ ধরা, পাখি শিকার ও গাছ কর্তন প্রতিরোধে অতীতের তুলনায় জেলা প্রশাসন কার্যকর ভুমিকা রাখছে।
সবশেষে আমরা আশার আলো দেখছি, বর্তমান সরকার ও স্থানীয় জেলা প্রশাসন বিশ্ব ঐতিহ্য মাদার ফিসারিজ অব টাঙ্গুয়ার হাওরের জীব বৈচিত্র, পরিবেশ প্রতিবেশ প্রকৃতি সুরক্ষার পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুত পযটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ দ্রুতই বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন।
সবশেষে একটি কথা সবাইকেই স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে বলতে হচ্ছে যে ২৮জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ দিবসটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। প্রকৃতি সরক্ষণ হলো সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত স্বাভাবিক ও নৈসর্গীক বস্তুু সংরক্ষণ।
বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে “রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ জীববৈচিত্র, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবে”। তাই সংবিধান রক্ষার অঙ্গিকার সবার মাঝে থাকতে হবে, থাকতে হবে প্রকৃতি প্রেম ও দেশ প্রেম।

লেখক: হাবিব সরোয়ার আজাদ, সাংবাদিক, পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটির উপ-পরিচালক।