শনিবার , আগস্ট ১৮, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বিলম্বিত হতে পারে বাঘ শুমারির ফল ঘোষণা, বাড়তে পারে সংখ্যা

নিউজ ডেস্ক

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাঘ প্রকণ্পের আওতায় ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা গণনা শুরু হয়। মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক এ কাজ মে মাসে শেষ হয়।তবে এখনও শুমারির ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বাঘের সংখ্যা সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনও তথ্য জানা যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বাঘের সংখ্যা বাড়তে পারে।

২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাঘ শুমারির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ প্রসঙ্গে বাঘ প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ বলেন, ‘বাঘ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বাঘের সংখ্যা প্রকাশ করবে সরকার। তবে বাঘের সংখ্যা বাড়তে পারে।’

বন্য প্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান বলেন, ‘বাঘ শুমারির মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় প্রয়োজন। বাঘ সংরক্ষণে মনিটরিং, টহল ব্যবস্থা জোরদার এবং বনরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের গবেষণায় সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৪৪০টি। ২০১৫ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা করা হয়। এতে ১০৬টি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে আমেরিকার দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে বাঘ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যামেরার সাহায্যে গণনার কাজ হাতে নেওয়া হয়। খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত সংরক্ষণ বিভাগ এ প্রকল্পকে জনবল ও ৭০টি ডিজিটাল ক্যামেরা সরবরাহ করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাঘ প্রকল্প ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনার কাজ শুরু হয়। মে মাসে মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়। সুন্দরবনের তিনটি অভয়রণ্য এলাকায় গাছে গাছে ক্যামেরা বেঁধে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পশ্চিম বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, ‘বাঘ শুমারি একটা কঠিন কাজ। আধুনিক পদ্ধতি গণনা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশ না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

খুলনা সার্কেলের উপ-বন সংরক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাঘ গণনার প্রতিবেদন প্রকাশ না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আগের চেয়ে এখন অধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গণনা কাজ চলছে।’

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জানুয়ারিতে থাইল্যন্ডের হুয়ানে অনুষ্ঠিত হয় টাইগার রেঞ্জ দেশ সমূহের ‘এশিয়া মিনিস্ট্রয়াল কনফারেন্স’। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয় প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হবে। সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণে ৯ দফা পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করা।

এবার বাঘ দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২৯ জুলাই সকাল ১০টায় শহিদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির পরে খুলনা অফিসার্স ক্লাবে আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন খুলনা সিটি করপোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী। এ বছর অষ্টম বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হবে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন