বৃহস্পতিবার , আগস্ট ২২, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

উৎকণ্ঠার মধ্যেই পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিভিন্ন ধরনের উৎকণ্ঠার মধ্যেই বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা) থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে স্থানীয় সময় বিকাল ৬টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৩০টি বেশি দলের ১২ হাজার ৫৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাকিস্তানে এখন মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখ। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ফলাফল দেওয়া হবে। তবে এবারের নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কারাদণ্ড, সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, নির্বাচনি প্রচারণায় হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও সশস্ত্রগোষ্ঠীর রাজনীতিতে প্রবেশসহ বিভিন্ন আলোচিত বিষয় রয়েছে। আর এ কারণেই মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠা কাজ করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য মঙ্গলবারই দেশের ৮৫ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি উপকরণ পৌঁছানো হয়েছে। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী আরও সাড়ে ৪ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা থাকবে।

পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরদার মুহাম্মাদ রাজা মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, পাকিস্তানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য ২৫ জুলাই ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি’।

বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৭১ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের প্রচারণায় পাকিস্তানের শীর্ষ তিন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) একে অপরকে দোষারোপ আর অভিযোগ করে গেছে।

তবে তাদের মধ্যে পিএমএল-এন ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী সামরিক বাহিনী তাদের সমর্থকদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি প্রার্থীদের দলত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে পিএমএল-এন’র কমপক্ষে ২০ জন প্রার্থী পিটিআইতে যোগ দিয়েছে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী আদালতে ১০ বিচার চলার পর গত ১৩ জুলাই পিএমএল-এন’র প্রধান নওয়াজ শরীফকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নওয়াজের ভাই শেহবাজ দলটির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তবে পিটিআই’র পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির প্রধান ইমরান খান। তিনি একে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছেন। সামরিক বাহিনীও রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকার রাখার কথা অস্বীকার করেছে।

তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষক হিসেবে পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন এই নির্বাচনকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে নোংরা বলে বর্ণনা করেছে। এই মাসের শুরুতে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এই নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য ‘ভয়ানক, আগ্রাসী ও নির্লজ্জ প্রচেষ্টা’র বিষয়ে উদ্বিগ্ন। বিবৃতিতে বলা হয়, সমালোচনা সত্বেও নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হচ্ছে। তাই এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সঠিক নির্বাচনি তথ্য খুব কম। পিএমএল-এন’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দেশের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবই এই নির্বাচনের পার্থক্য গড়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখান যারা ভাল করবে তাদেরই জেতার সম্ভাবনা বেশি।

এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর রাজনীতিতে প্রবেশের বিষয়টিও উদ্বিগ্নতা বাড়িয়েছে। কারণ চরম ডানপন্থী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও মিল্লি মুসলিম লিগ উভয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দল দুটি শত শত প্রার্থী দিয়েছে।

এছাড়া এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক খেয়াল রাখা হয়েছে। কারণ এবার নির্বাচনি প্রচারণাকালেই বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৭৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাসতুং শহরে একটি হামলায়ই ১৫৪ জন নিহত হন। এটা পাকিস্তানের ইতিহাসেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

error: Content is protected !!