মঙ্গলবার , আগস্ট ২০, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোকায় পৈত্তিক সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগ


এম আলমগীর, স্টাফ করসপনডেন্ট

জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের জোকা গ্রামের ছাবেদ আলীর পৈত্রিক সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় ছাবেদ আলীর জমি জোড় পূর্বক দখল করেছে জালাল উদ্দিন।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের জোকা গ্রামের মৃত রহমত উল্লাহর ছেলে মোঃ ছাবেদ আলীর পৈত্রিক ১৬শতাংশ জমি বেদখল করেছে একই এলাকার মৃত নইমুদ্দিনের পুত্র মোঃ জালাল উদ্দিন, আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ সাজ মাসুদ, মোঃ মাজেদ আলী, মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মোঃ আলাল উদ্দিন, মক্কা মিয়া, ফজলুল, মাজেদ আলীর ছেলে মোঃ মঞ্জু মিয়া, অন্টু মিয়া, জালাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হক মোঃ বাবুল মিয়া। অবৈধ দখলদারদের সাথে সহযোগীতা করছেন স্থানীয় এলাকার প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের লোকজন। জামালপুর মৌজা জোকা সিএস খতিয়ান নং ৯০, আরওআর খতিয়ান নং ১৫৬, সিএস/আরওআর দাগ নং ৫৬০, বিআরএস খতিয়ান নং-৩৫১,বিআরএস দাগনং-১৬১৪, জমির পরিমান ১৬ শতাংশ। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই ১৬ শতাংশ জমি দখল করে নেয় প্রতিপক্ষ জালাল উদ্দিন। এ ঘটনা নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়। কিন্তু জালাল উদ্দিন সালিশের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে তারা দখল বজায় রাখেন। পরে বাধ্য হয়ে ছাবেদ আলী ২০১৪ সালের জুনে জামালপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। জামালপুরে ১৪৩/২০১৪ অন্য প্রকার এবং সিনিয়র সহকারী জজ ১ম আদালত, জামালপুরে ৯/২০১৭ অন্য ডিং মোকাদ্দমা দায়ের করা হয়। প্রায় ৪ বছর মামলা চলার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক সিনিয়র সহকারী জজ ইমাম হাসান গত ২৪ এপ্রিল বাদীর পক্ষে রায় দেন এবং মোকাদ্দমায় ছাবেদ আলী ডিক্রী প্রাপ্ত হন। এর পরও প্রভাবশালী জালাল উদ্দিন ছাবেদ আলীর বসত ভিটার দখল ছাড়েনি। পরে আদালত ছাবেদ আলীকে তার জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। অতঃপর উক্ত মোকাদ্দমার ডিক্রী প্রাপ্ত হওয়ার পর বিগত ১৬ মে ২০১৮ তারিখ বেলা ২ ঘটিকার সময় বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ স্কোয়াড ও ঢুলিসহ ছাবেদ আলীর বাড়িতে উপস্থিত হইয়া জমি চিহ্নিত করিয়া এর চার পাশে ৪টি লাল নিশান পুতিয়া ঢুলির ঢুলে ঘোষণা দ্বারা রাষ্ট্র পূর্বক প্রচার করিয়া ছাবেদ আলীকে উক্ত জমি দখল প্রদান করেন। কিন্তু এই বিরোধ পূর্নজমির জবরদখলকারী জালাল উদ্দিন আদালতে তার পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যার্থ হন। আদালতকৃত দখল দেওয়া সত্বেও বিরোধীরা পরের দিন পূনরায় ছাবেদ আলীর জমি দখল ছাড়িয়া দিতে বলে। এ ঘটনায় ছাবেদ আলী প্রতিবাদ জানালে বিবাদীগন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লাঠি, দা, লোহার রড, ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার উপর আক্রমন করে বলে জানা গেছে। ছাবেদ আলীর ডাক চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে ছাবেদ আলী জামালপুর দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেন। মোকাদ্দমা নং-৭(১)২০১৮। বিরোধীরা প্রতিনিয়তই ছাবেদ আলী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি প্রদান করে আসছে বলে ছাবেদ আলী জানায়। এছাড়াও বাড়ী ঘরে, রাস্তাঘাটে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গবদ্ধদল ছাবেদ আলীকে বাড়ীর বাহিরে বের হতে দিচ্ছেনা। ছাবেদ আলী জমি চাষাবাদ, গরুছাগল দেখা শোনাকরাসহ কোন প্রকার সংসারের কাজ করতে পারছেনা। ছাবেদ আলীর ছেলে মোঃ সাইফুল মালেক জানায়, আমাদের মার্কেটের চারটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। দুঃস্কৃতিকারীরা আমাদের ভারাটিয়াদের উচ্ছেদ করারসহ নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে ছাবেদ আলী তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। জামালপুর সদর থানা সাধারণ ডায়রি নাম্বার ৯৮৮ তারিখ ১৯-০৭-২০১৮ইং।
বিরোধীরা ও কুচক্রীমহল এই খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার একটি সাজানো সালিশ করে বলে জানায় ছাবেদ আলী। পরে জামালপুর সদর থানার ওসির নির্দেশে নরুন্দি তদন্তকেন্দ্রের এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে সালিশ দরবার ও মামলা মোকাদ্দমা চলছে। কিছুদিন পূর্বে আদালত ছাবেদ আলীর পক্ষে ডিক্রী প্রদান করে এবং পুলিশ এসে ছাবেদ আলীর জমি বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু জালাল উদ্দিন এই জমি আবার দখল করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড়ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় এলাকাবাসি।

error: Content is protected !!