শুক্রবার , ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে নাকচ করে পুতিনের পাশেই ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গোয়েন্দাদের এমন বক্তব্য দৃশ্যত প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হেলসিংকিতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে দীর্ঘ কথা হয়েছে। এই আলাপচারিতায় ২০১৬ সালের নির্বাচনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার পেছনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কোনও কারণ তিনি দেখতে পাননি। পুতিন বেশ জোরালোভাবে এমন হস্তক্ষেপের খবর নাকচ করে দিয়েছেন।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি’তে দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজন ছিল এবং সেটাই করা হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাশিয়া ইতোপূর্বে কখনও হস্তক্ষেপ করেনি। ভবিষ্যতেও এমন কোনও পরিকল্পনা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে দুই নেতাই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের অঙ্গীকার করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল তা এখন পরিবর্তন হয়েছে। পুতিন বলেন, দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনার কোনও কারণ অবশিষ্ট নেই।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জটিলতা বা সমস্যা হওয়ার মতো কোনও বড় কারণ নেই। স্নায়ুযুদ্ধ এখন অতীত। বিশ্ব পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘ব্যাপক ফলপ্রসূ’ বৈঠকের প্রশংসা করে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার বদলে দেশটির সঙ্গে অব্যাহত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, ‘একটি গঠনমূলক সংলাপ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জন্যই ভালো নয়, বরং এটি পুরো দুনিয়ার জন্য ইতিবাচক।’

রুশ-মার্কিন সম্পর্কের ঘাটতির জন্য নিজের পূর্বসূরিদের ‘মূর্খতা’কে দায়ী করে এর নিন্দা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক কখনোই এতোটা খারাপ ছিল না। তবে চার ঘণ্টার আগে এর পরিবর্তন হয়েছে।

পুতিনের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি একটি চমৎকার সূচনা। প্রত্যেকের জন্যই এটি খুব ভালো একটি সূচনা।’

বৈঠক শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সামরিক বাণিজ্য থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু, চীন নিয়ে আলোচনা করতে পারি। আমাদের দুজনেরই বন্ধু চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়েও কথা বলবো আমরা। আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে দারুণ একটা সম্পর্কের সূচনা হবে। আপনি নিশ্চয়ই শুনেও থাকবেন, আমি সবসময়ই বলে আসছি, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব খারাপ কিছু নয়। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি বিশ্বও আমাদের একসঙ্গে দেখতে চায়।’

রুশ-মার্কিন সম্পর্কে কেন এতো উত্তেজনা?

এজন্য ফিরে যেতে হবে কথিত স্নায়ুযুদ্ধের (১৯৪৫-১৯৮৯) সময়কালে। যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন কখনও যুদ্ধে না জড়ালেও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য ছিল। বর্তমানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবার রাশিয়াকে সেই ক্ষমতায় নিয়ে যেতে চান। কখনও কখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানও নিচ্ছে দেশটি। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার পর পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। এর জেরে তখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সর্বশেষ সোমবারের বৈঠকে বৈরিতা থেকে বেরিয়ে এসে একযোগে কাজ করার কথা বলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।

সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা।

error: Content is protected !!