বুধবার , আগস্ট ২১, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

পাবনার ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই’ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বোতাম চেপে এবং সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে এই কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় রাশান কনফেডারেশনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিসভ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। শনিবার বেলা ১২টায় ঢালাই কাজের উদ্বোধন করেন তারা।

বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনিসহ এবং রাশিয়ান কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় চুল্লির প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন রাশান ফেডারেশনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মি. ইউরি ইভানোভিচ বোরিসভ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন আইএইএ’র পরিচালক মি. দোহী হান। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ, ঈশ্বরদী থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রেলপথ, ঈশ্বরদী থানা ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, পাবনা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস, বিভিন্ন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন প্রকল্পসহ ৪৯টি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। মাত্র সাত মাস আগে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে, প্রথম ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই শুরু করা হয়। সে ইউনিটের নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এবার শুরু হলো দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ। আমি আশা করি, নির্ধারিত সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ আমরা সম্পন্ন করতে সমর্থ হবো।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের স্বপ্নযাত্রার শুরু ১৯৬১ সালে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাঁর অকাল মৃত্যুতে তা স্তিমিত হয়ে যায়। আমরা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সে উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সে মহাপরিকল্পনারই অংশ। ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা সংবলিত প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এ কেন্দ্র।’ প্রধানমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

error: Content is protected !!