শনিবার , জুলাই ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

জামালপুরে আইএফআইসি ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ

স্টাফ করসপনডেন্ট
আইএফআইসি ব্যাংক জামালপুর শাখার ম্যানেজার মোঃ মহসিন এর বিরুদ্ধে ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইএফআইসি ব্যাংক ম্যানেজার মহসিন, ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা, শহরের দয়াময়ী রোডের হক ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল মালিক শামিম এর যোগ সাজসে গ্রাহকদের মোটা অংকের ঋণ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকার উৎকোচ গ্রহণ করেন। এতে ব্যাংক ম্যানেজার নিজে ও তার বন্ধু কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা মাহবুব এবং স্টেশন রোডের তুলা ব্যবসায়ী হেলালসহ কয়েক জনকে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঋণ সুবিধা পাইয়ে দিতে লোভ দেখিয়ে উৎকোচ নিতে ব্যবহার করেন। ভোক্তভোগী গ্রাহকরা জানান আইএফআইসি ব্যাংক ম্যানেজার তার ব্যাংক হতে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে জন প্রতি ৩ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করেন। উৎকোচ নেয়ার ৩ থেকে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক ম্যানেজার মহসিন ও অন্যান্য কর্মকর্তা কোন ঋণ না দেয়ায় আমরা প্রতিনিয়তই ব্যাংকে খোজ খবর রাখি।
আইএফসিআই ব্যাংক ঋণ প্রত্যাশি শহরের পাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন বিজিবি সদস্য মতিউর রহমান জানান, ২০ লক্ষ টাকা ঋণ দেবে বলে ম্যানেজারের বন্ধু মাহবুব ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ আমার কাছ থেকে নেয়। তিনি আরো বলেন পাথালিয়া গ্রামের রব্বানির কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেয় ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ দেবে বলে। একই গ্রামের আব্দুল লতিফ কে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ দেবে বলে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে ব্যাংক ম্যানেজার মহসিন।
দেওয়ান পাড়ার বাসিন্দা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী ও জেলা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলী জানান, ব্যাংক ম্যানেজার ও মাহবুব মিলে আমাকে ৪০ লক্ষ টাকা ঋণ দেবে বলে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি কোন ঋণ পাইনি। পাথালিয়ার আব্দুল লতিফ জানান, আমাকে ৪০ লক্ষ টাকার ঋণ দেবে বলে ব্যাংক ম্যানেজার ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেয়। ঋণ দেয়া হবে কাগজ পত্র ঠিক করা হচ্ছে, ঢাকা থেকে কাগজ আসছে না এমন বাহানায় ফেলে দিয়েছে। এছাড়াও রামনগরের শুভ, ইকবালপুরের সুজন, দেওয়ানপাড়ার নাজমুল হাসান জনিসহ প্রায় শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন ব্যাংক ম্যানেজার। এতে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে হতাশার নিশ্বাস ফেলে আক্ষেপের সাথে বলেন আপনাদের তথ্যদিলে যদি ম্যানেজার রাতে পালিয়ে যায় তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে। তাই আমরা আপনাদের এ বিষয়ে পরে তথ্য দিবো। এ বিষয়ে আইএফআইসি ব্যাংক ম্যানেজার মহসিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে ব্যাংকে অডিট এসেছে বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ব্যাংক থেকে বের হয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক বলেন আমার কাছ থেকে ১১ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার কয়েকদিন আগে অষ্ট্রেলিয়া বেড়াতে গিয়ে ছিলেন। সেখানে নাকি তিনি বাড়িও কিনেছেন।
ব্যাংক হিসাব রক্ষক মোরশেদ ও মামুন এর কাছে ম্যানেজারের মুঠোফোন নাম্বার চাইলে তারা ফোন নাম্বার দিতে অসম্মতি দেখান। তারা বলেন ব্যাংক ম্যানেজার আমাদের কে নিষেধ করেছেন তার ফোন নাম্বার অন্যদের দিতে।
উৎকোচ গ্রহণ করেছেন এমন ৩৬ জনের তালিকা গ্রাহকের চাপের মুখে ব্যাংক ম্যানেজার অন্যান্য গ্রাহকদের দিয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।