শনিবার , জুলাই ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

দিন দিন থ্রি-পিসে আধুনিকতা


 জীবনধারা ডেস্ক

মেয়েদের সব থেকে দূর্বল জায়গা হল থ্রি-পিস। থ্রি-পিস নামটা শুনলেই মনের মধ্যে কেমন একটা অস্বস্তি অনুভব হয়। মনে হয়, আবার কবে মার্কেটে যাবেন। নতুন নতুন ফ্যাশনেবল থ্রি-পিস দেখবেন । মেয়েদের মন শুধু ফ্যাশনেবল থ্রি-পিস দেখেই ক্ষান্ত হয় না।

মনের মধ্যে একটা খচখচ ভাব থেকে যায় থ্রি-পিস কেনার জন্য। যখন একটা থ্রি-পিস কিনতে পারেন তখন মনে খুবই শান্তি পান।

স্কুল,কলেজ ও ইউনির্ভাসিটির মেয়েদের হাতে বেশি টাকা থাকে না। তারা ইচ্ছা করলেই থ্রি-পিস কিনতে পারে না। তারা পুরো মাসের হাত খরচের টাকা জমিয়ে রাখে , যাতে মাস শেষে নিজের পছন্দের সুন্দর থ্রি-পিসটি কিনতে পারে। অনেকে বাড়ি থেকে পাঠানো টাকা থেকে হাত খরচের টাকা বাঁচায়। আবার যাদের বাড়ি থেকে হাত খরচের টাকা দেয় না তারাও টিউশনি করে , বা বিভিন্ন উপায়ে টাকা উপার্জন করে টাকা জমায় মাস শেষে প্রয়োজনীয় জিনিস বা নতুন ডিজাইনের একটা থ্রি-পিস কেনার জন্য। কারন এখন হল , ফ্যাশনের দিন। প্রতিদিন সবাই নিত্যনতুন থ্রি-পিস পরেই ইউনির্ভাসিটি বা কলেজে আসে।

তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যারা একটু নিম্ন মধ্যবিত্তের তারা হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে নেয়। এরপর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে। অনেকে ব্রান্ডের দামি দামি সুন্দর ডিজাইনের থ্রি-পিস কিনে  আবার অনেকে সুতির কম দামি থ্রি-পিস কিনেও পরে । কেউই এখন আর পিছিয়ে নেই।

থ্রিপিসের ডিজাইনে আধুনিকতা

অনেক বছর আগে থেকেই দেখা যায় যে , দিন দিন নতুন নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিস বের হচ্ছে । অনেক আগে যখন আপনি ছোট ছিলেন তখন দেখতেন , ডিভাইডেট সালোয়ারের অনেক প্রচলন ছিল । ডিভাইডেট সালোয়ার বলতে , সালোয়ারের নিচ থেকে কেটে ডিজাইন করাকে বুঝানো হত । ডিভাইডেট সালোয়ারের সঙ্গে ছিল সর্ট জামা । তখনকার মেয়েরা সুতির ওড়নাই বেশি পরতো । এর কিছু বছর পর দেখা গেল , মেয়েরা ডিভাইডেট সালোয়ারের বদলে চোষ সালোয়ার বেশি পছন্দ করছে । তাই ডিভাইডেট সালোয়ারের যুগ পরিবর্তিত হয়ে এসে গেল , চোষ সালোয়ারের যুগ । চোষ সালোয়ারের সাথে আসলো সর্ট কামিজ । মেয়েরা তখন চোষ সালোয়ার আর সর্ট কামিজের সাথে সিফনের পাতলা ওড়না পড়তে শুরু করল । এ ফ্যাশনের ২ থেকে ৩ বছর পর আসল চোষ সালোয়ারের সাথে লং কামিজ । লং কামিজ আর চোষ সালোয়ারের সাথে আসলো র্জজেটের পাতলা ওড়না । মেয়েরা তখন পা পর্যন্ত লম্বা কামিজ পরতে শুরু করল । বেশির ভাগ কামিজগুলো গলা ও নিচে কাজ করা থাকতো । এর সঙ্গে থাকতো র্জজেটের ওড়না ।

এর কিছু দিন পরই আসল লং কামিজের সাথে ঢোলা সালোয়ার । অথাৎ প্লাজোর যুগ । এখনকার মেয়েরা প্লাজোর সাথে লং কামিজ পড়তে বেশি পছন্দ করে । তারা লং কামিজের সাথে মিলিয়ে বিভিন্ন রংয়ের প্লাজো বানিয়ে নেয় । এর সঙ্গে থাকে নানা ডিজাইনের ফ্যাশনেবল ওড়না । প্লাজো আবার বিভিন্ন ধরনের হয় । সোজা বা এক ছাটের প্লাজো, আবার কুচি দিয়ে বানানো অনেক ঢিলা প্লাজো । যার যেমন পছন্দ সে সেরকম ভাবে বানিয়ে নেয় । এর সঙ্গে কিছু ডিভাইডেড সালোয়ারের মত ডিজাইনের সালোয়ারও দেখা যায় । এর সাথে থাকে লং কামিজ ও পাতলা র্জজেটের  ওড়না । এ সালোয়ারগুলো ডিভাডেড সালোয়ারের মত নিচ থেকে কাটা থাকে আর কাটার উপরে বোতাম দিয়ে ডিজাইন করা থাকে । এ ধরনের সালোয়ার লং কামিজের সঙ্গে এখন অনেক বেশি প্রচলিত । এর সঙ্গে আরও আসছে বিভিন্ন ডিজাইনের স্কার্ট প্লাজো । এ প্লাজোগুলোর অনেক বেশি ঘের থাকে । স্কার্ট প্লাজোর সঙ্গেও লং কামিজের প্রচলন রয়েছে । ইদানিং দেখা যাচ্ছে যে , কিছু কিছু সালোয়ার ডিভাইডেট সালোয়ারের মত করে বানানো হয় । কিন্তু এ সব সালোয়ারের নিচে চেরা দেওয়া থাকে না । এর সাথেও লং কামিজ ও সিফনের ওড়না প্রচলিত রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ