বুধবার , ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ইসলামপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে স্বস্তিতে লাখো মানুষ


লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলামপুর
জামালপুরের ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ সীমানায় যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হতে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত ৪কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ নির্মান হওয়ায় সুবিধা পাচ্ছে লাখো মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে যমুনা চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলী জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করলেও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রামে পানি প্রবাহিত না হওয়ায় শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে গেল বন্যায় আক্রান্ত মানুষ গুলো।
এই বাঁধ নির্মানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে না পেরে উপজেলার সদর ইউনিয়ন, নোয়ারপাড়া, চিনাডুলী, বেলগাছা ও কুলকান্দি সহ ইসলামপুরবাসী আবাদী জমিগুলোর ফসল ঘরে নিতে পারবে বলে আশা করছে। অন্যদিকে বাড়িঘরে পানি উঠতে না পারায় এলাকাবাসী বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে দীর্ঘদিন পানিবন্দি থেকে জীবনধারণ করতে হতো। বর্ষা মৌসুমে ওই লক্ষাধিক মানুষকে বন্যার পানিবন্দি দশা থেকে বাঁচানোর বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এলাকাবাসী জানায়, যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হতে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি হওয়ায় এবারের বন্যায় অদ্যাবধি যমুনা নদী থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবাহিত হতে পারেনি। এতে করে পশ্চিম ইসলামপুরের প্রায় ৪০টি গ্রাম সহ জামালপুরবাসী উপকৃত হচ্ছে।
অকাল বন্যার পানি থেকে বাঁচার রক্ষা কবজ হরিণধার বাঁধটি ভাঙনে বিলিন হয়েছে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা নদী থেকে বাঁধাহীন ভাবে নেমে আসা পানির নিচে তলিয়ে যেত উপজেলার সদর ইউনিয়ন, পাথর্শী, কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুুলি ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন সমুহের নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
আবার যমুনা নদীতে বন্যার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করতেই ওই ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তো। ওই সময় পানিবন্দিদের ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকরা খাদ্যের তীব্র সঙ্কটসহ গো-খাদ্যের অভাব ও ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত নানা রোগের পাদুর্ভাব এবং পানিবন্দিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করাসহ শিশুদের ডুবে মরার ঘটনা ঘটে। বন্যার পানির সাথে নদীর বালি উঠে এসে প্রতি বছরই যমুনা তীরবর্তী এলাকার শতশত একর ফসলি জমি বালি পড়ে অনাবাদী হয়ে যায়।


প্রতি বছরই যমুনা তীরবর্তী ৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ পাকা ও কাঁচা সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যায় অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট, লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে বাড়িঘর। মেরামত করতে না করতেই আবারও বন্যা এসে পূর্বের অবস্থা দেখা দেয়। এতে যমুনা তীরের মানুষগুলোর দুর্ভোগ যেন লেগেই থাকতো। ইসলামপুর বাসীর দূভোর্গ লাঘবে স্থানীয় এমপি’র প্রচেষ্টায় যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হতে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধেঁর কাজ চলমান রয়েছে। মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে হয়ে ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ বসানো হচ্ছে। কোন প্রকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুদান ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ ও বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমেই ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রন বাঁধের কাজ এক তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হয়েছে।
মোরাদাবাদ ঘাট মালিক আনোয়ার জানান, এই বাঁধ নির্মানে পশ্চিম ইসলামপুরে প্রায় ৪০টি গ্রামসহ জামালপুরবাসী উপকার পাইতাছে। ওই এলাকার জাফর আলী জানান, গেল বন্যায় আমার বাড়ি যমুনা ভাসাইয়া নিয়া গেছে, এবার বাঁধটি হওয়ায় বন্যা আসলেও এখন শান্তিতেই আছি।
পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল জানান, বন্যা মৌসুমের পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষা পেতে পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি জরুরী ছিল। জনস্বার্থে স্থানীয় এমপির প্রচেষ্টায় বিভিন্ন বরাদ্দের মাধ্যমে এই বাঁধটির কাজ চলমান রয়েছে। এমপি মহোদয় জনস্বার্থে বরাদ্দ দিলেও আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন বরাদ্দ দিয়ে এই বাধেঁর কাজ চলছে।
কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট জানান, গেল বন্যায় এই সময় মানুষের ঘরে ঘরে পানি ঢুকে পড়তো। এই বাধঁটি হওয়ায় এবার পানি ভেদ করতে না পারায় মানুষের দূর্দশা লাঘব হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, দেওয়ানগঞ্জ সীমানা হতে যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হয়ে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত ৪কিঃমিঃ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁটি ইসলামপুরবাসীর জন্য জরুরী ছিল। এই বাঁধ নির্মানে ৫২৮ মেঃটন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। এতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে যতটুকু বরাদ্দ রয়েছে তা বাঁধের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তারমধ্যই কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও জনস্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক বরাদ্দ থেকেও বরাদ্দ দিয়ে এই কাজটি করা হচ্ছে। প্রতিদিন তদারকি করছি, পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও বাধঁ হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামগুলোর মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল জানান, বন্যা মৌসুমে ইসলামপুর উপজেলাবাসীকে পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষার জন্য যমুনার পূর্বতীরে একটি উঁচু ও প্রশস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছিল। তাই জনস্বার্থে পাথর্শী ও কুলকান্দি চেয়ারম্যান কে দায়িত্ব দিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় নির্মান কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সরকারী অর্থ বরাদ্দ পেলে পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের কাঠমা পর্যন্ত ২০কিলোমিটার এলাকায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

error: Content is protected !!