শনিবার , জুলাই ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

দ্বন্দ্ব নিরসন করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তৃণমূলকে শেখ হাসিনা


নিউজ ডেস্ক
দেশে আওয়ামী লীগের সব ইউনিটের দ্বন্দ্ব নিরসন করে দলের জন্য একতাবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে কাজ করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘সব দ্বন্দ্ব নিরসন করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সনোনয়ন দেওয়অর ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত নেওয়া হবে। তারপরও যাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। অনেকদিন ক্ষমতায় থাকলে যা হয়, মনে হয়- এই একটা নির্বাচন না হলে কী হয়, তা করলে হবে না। প্রতিটা আসন গুরুত্বপূর্ণ। সব স্থানেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

শনিবার (৭ জুলাই) গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করা মানে শুধু নিজের উন্নয়ন করা নয়, দেশ ও দশের জন্য কাজ করাই এই দলের মূল উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধু দলকে জন্য সময় দেওয়ার জন্য মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন। এই দলের জন্য কাজ করতে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।’

এসময় শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি মানুষও অশিক্ষিত থাকবে না। না খেয়ে থাকবে না। মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে, সুফল পেয়েছে। আগামীতেও নৌকায় ভোট পেতে জনগণের দোরগোড়ায় যেতে হবে।’

আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচন কঠিন হবে। এই নির্বাচনে জয়ী না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেমে যাবে, দারিদ্রের হার বেড়ে যাবে, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য যেসব কর্মসূচি চলছে তা বন্ধ করে দেবে, উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এর আগেও এরকম হয়েছিল। তাই সব দ্বন্দ্ব নিরসন করে স্থানীয়ভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে বারবার না বললে মানুষ তা মনে রাখে না। তাই উন্নয়নের তথ্যগুলো জনগণের কাছে বারবার তুলে ধরতে হবে।বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাই মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের সেবা করার জন্য। মানুষের কল্যাণে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করার জন্য। আমাদের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রাচীন সংগঠন। জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমাদের রাজনীতি করতে হবে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) যত আন্দোলন করেছেন, সবসময় তার ভেতরে একটা লক্ষ্য ছিল। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আওয়ামী লীগের প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে সম্মান পাচ্ছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা কখনোই এদেশের উন্নয়ন চায়নি। জিয়াউর রহমান সাত মার্চের ভাষণ বাজাতে দেননি দেশে। কিন্তু এই ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিশ্বের কোনও নেতার ভাষণ এতবার বাজানো হয়নি। এখনও এ ভাষণ আমাদের শিহরিত করে তোলে।’

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এতিমখানার জন্য টাকা এনে সেই টাকা কীভাবে লুটপাট করা হলো আপনারা তা জানেন। বিএনপির এতো জাঁদরেল আইনজীবী তারা কী করলো, তারা তো প্রমাণ করতে পারলো না যে- খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে নাই। এই মামলা ১০ বছর ধরে চলেছে। এখানে আমার কী করার আছে। মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় খালেদা জিয়ার জেল হয়েছে। এর আগেও সে ঠিকমতো কোর্টে হাজিরা দেয় নাই। তার দুই সন্তানও দুর্নিীতি মামলার আসামি। ২০১৪ সালের নির্বঅচনকে কেন্দ্র করে তারা সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। গাড়ি পুড়িয়েছে। দুর্নীতি লুটপাট করেছে।’

আওয়অমী লীগকে গণমানুষের সংগঠন দাবি করে শেখ হাসিনা এসময় আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গ্রামের মানুষের সংগঠন। প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নগর হিসেবে গড়ে তুলে গ্রামের মানুষগুলো যেন নাগরিক সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করবো। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। গ্রামের মানুষ পর্যন্ত এর সুবিধা ভোগ করবে।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন