মঙ্গলবার , আগস্ট ২০, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সড়ক নয়, যেন নর্দমা


শওকত জামান
সংস্কারের অভাবে জামালপুরের পাঁচরাস্তা মোড় হতে শহীদ হারুন সড়কটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। কাদাজলে চলাচলে একবারে অনুপযোগী এ ব্যস্ততম সড়কটি। গত ১০দিন ধরে যানবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পায়ে হেঁটে চলাচলও দায়। চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ পথে চলাচলরত পথচারীরা। এ অঞ্চলের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি পোহালেও রাস্তাটি সংস্কারে পৌরকর্তৃপক্ষের নেই কোনো পদক্ষেপ।

জামালপুর পৌরসভার ৩নং ও ৪নং ওয়ার্ডের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে এ সড়ক। পাঁচরাস্তা মোড় মাদারগঞ্জ সিএনজি ষ্টেশন থেকে শহরে প্রবেশের একমাত্র পথ এটি। রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বিকল্প পথে দুইগুণ ঘুরে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। এ সড়কের দু’পাশে রয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, বিউটি পার্লার, ডেকোরেটর, হোটেল-রেস্তোরা, হস্তশিল্পের দোকনসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায় ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে উত্তর কাচারীপাড়া, মিয়াপাড়া ও সর্দারপাড়া ও নয়াপাড়ায় বসবাসরত ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে দেয়ার নোটিশ দিচ্ছে বাড়ির মালিকদের, জানালেন আমেনা স্বরণীকা ভবনের মালিক আব্দুল আলীম সোহেল।


মিয়াপাড়ার বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম জানান, ‘র্দীঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন পরিস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি ভাঙতে ভাঙতে এখন কাদা-জলে একাকার। রাস্তা নয়, যেন নর্দমা। এ পরিস্থিতিতে যানবহন চলাচলও বন্ধ। খুবই কষ্টে যাতায়াত করছি।’ উত্তর কাচারীপাড়ার গৃহবধু তানিয়া শারমিন বিদুৎ বলেন, ‘বাচ্চা নিয়ে স্কুলে এ পথে যাতায়াতে কী যে কষ্ট বলে বুঝাতে পারব না। কাঁদাজল মাড়িয়ে পিচ্ছিল পথে বাচ্চা নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছি।’ এ এলাকার লিটন মিয়া জানান, ‘র্দীঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকলেও ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনি ও ৪নং ওয়ার্ডের শাহরিয়ার আলম ইদু খোঁজ পর্যন্ত নিতে আসে নি।’


নির্বাচনের পর এলাকায় পা পড়েনি, স্থানীয়দের এই অভিযোগের বিষয়ে ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনি বলেন, নির্বাচনে ওই এলাকার লোক আমাকে ভোট দেয়নি। সেখানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরীর বাড়ী। ফারুক চৌধুরী রাস্তাটি নির্মানের দায়িত্ব নিয়েছেন।
৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহরিয়ার আলম ইদু বলেন, পৌরসভার ফান্ডে টাকা নেই। রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার জন্য চেষ্টা করবো।
আল-আমীন ডেকোরেটরের মালিক আলতাফ হোসেন জানান, যানবহন চলাচল বন্ধ থাকায় কোন অর্ডার পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বউ পোলাপান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। মুদি দোকানি রুমান, হোটেল মালিক জামাল হোসেন জানান, আগের চেয়ে বেচাকেনা তিন ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। পুল বিলডারস এন্ড কফি সপের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, যানবহন চলাচল না করায় বিলিয়ার্ডস খেলোয়াড়রাও আসছে না। আয় রোজগার নেই বললেই চলে। মো: নুর খান বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই এ সড়কে জমে হাঁটুপানি। পানি ঢুকে বাসাবাড়িতেও। এ অবস্থায় আমাদের বসবাস করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
উত্তর কাচারীপাড়ার স্বপন রহমান বলেন, টেন্ডারের অপেক্ষা না করে চলাচলা উপযোগী করতে পৌর কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার প্রয়োজন। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি রাস্তাটিতে চলাচলে শোচনীয় অবস্থা স্বীকার করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঁদাপ্যাক তুলে রাস্তাটি চলাচলে উপযোগী করে তোলা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে দরপত্র আহবান করে রাস্তা নির্মানের আশ্বাস দেন তিনি।

error: Content is protected !!