শনিবার , নভেম্বর ১৭, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

তুরস্কের প্রথম নির্বাহী প্রেসিডেন্ট হলেন এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রজব তায়্যিব এরদোয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যদিয়ে তুরস্কের ১৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন এরদোয়ান। সংশোধিত সংবিধানের অধীনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি পাচ্ছেন নিরঙ্কুশ নির্বাহী ক্ষমতা। গত বছরের গণভোটে সংসদীয় ব্যবস্থা বাতিল করে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থায় প্রবর্তনের রায় আসার পর এরদোয়ান হচ্ছেন তুরস্কের ইতিহাসে প্রথম নির্বাহী প্রেসিডেন্ট। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই রবিবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সংবাদমাধ্যমে পরিবেশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে এরদোয়ানের বিজয়ের খবর নিশ্চিত করা হয়।
তুরস্কের সর্বোচ্চ নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ (ওয়াইএসকে)-এর প্রধান সাদি গুভেন আঙ্কারায় সাংবাদিকদের জানান, রবিবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ৯৭.৭ শতাংশ ব্যালট গণনা শেষে এরদোয়ান ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়। কোনও প্রার্থী যদি প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পান, তবে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হয়। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফা নির্বাচনের পনের দিন পর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দফা নির্বাচন। যদিও ইতোমধ্যেই পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গেছেন এরদোয়ান। তাই দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনও প্রয়োজন হবে না।

গত বছর অনুষ্ঠিত গণভোটে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় আসার পর রবিবার (২৪ জুন) প্রথমবারের মতো একযোগে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয় তুর্কি জনগণ। ওই গণভোটে দেশের সংসদীয় ব্যবস্থাকে নির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থায় পরিণত করার পক্ষে রায় এসেছিল। নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে এরদোয়ান উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা পাবেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করতে পারবেন তিনি। নির্বাহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টের মনিটরিং করার ভূমিকাও বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে এরদোয়ানের হাতে।

২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোয়ান। ২০১৪ সালেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তার প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কিরা। ২০১৬ সালের এক ‘ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থানের’ পর ২০১৭ সালে এক গণভোটে সামান্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন এরদোয়ান। এতে তিনি দেশটিকে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে জনরায় পান। এরদোয়ান এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন এবং যেকোনো সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন।

রবিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণার পর পরই সাংবাদিকদের এরদোয়ান বলেন, ‘শাসক নয়, বরং সবসময় জনগণের সেবক হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার জনগণ এ ব্যাপারে সজাগ। ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।’ তিনি বলেন, প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে তুরস্ক দুনিয়াকে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়েছে। এ নির্বাচনে তুরস্কের জনগণ, এ অঞ্চল এবং দুনিয়ার সব নিপীড়িত মানুষের বিজয় অর্জিত হয়েছে।

এদিকে এরদোয়ানের বিজয়ের খবরে রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তার সমর্থকরা। আঙ্কারায় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র জিতে গেছে, জনগণের ইচ্ছার জয় হয়েছে। তুরস্ক জিতে গেছে।’

বিশ্বনেতারাও এরদোয়ানকে একের পর এক অভিনন্দন বার্তা পাঠাচ্ছেন। এরমধ্যে রয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা আকিঞ্চি, বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসোভ প্রমুখ।

রবিবার একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্ট নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স। ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে এরদোয়ানের জোট। সিএইচপি’র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৩৪ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট।

৬০০ আসনের পার্লামেন্টে এরদোয়ানের দল একেপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৯৩ জন এমপি। জোট শরিক এমএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৫০ জন। কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪৬ জন এমপি। তাদের জোট শরিক ইয়ি পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪৪ জন।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন