শনিবার , জুলাই ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

গুলিতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

দেশের তিন জেলায় গুলিতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। টাঙ্গাইল ও চুয়াডাঙ্গায় দুই মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধের সময় এসআই জয়দেব সাহা, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। শনিবার (২৩ জুন) ভোর ৩টার দিকে মাহমুদ মহল্লায় রেললাইনের পাশে ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মাহমুদপুর রেলকলোনি মহল্লার বাসিন্দা এবং সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলসের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক মৃত হাতেম আলীর ছেলে। জাহাঙ্গীরের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, সংঘবদ্ধভাবে বড় ধরনের মাদক পাচার হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা পুলিশকে দেখে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্তে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে রেখেছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সদর থানায় কমপক্ষে ৭টি মামলা রয়েছে বলেও ওসি জানান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ২৫ বোতল ফেনসিডিল, ১০৫ পিচ ইয়াবা, একটি দেশীয় পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে বন্দুকযুদ্ধের সময় আহত পুলিশ সদস্যদের সিরাজগঞ্জ আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত জাহাঙ্গীর মাদক ব্যবসায়ী হলেও খুচরা বিক্রেতা। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসায়ীই। সে বড় হোক, আর ছোটই হোক। গোপন সংবাদ পেয়েই পুলিশি অভিযান চলে। অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’

এদিকে টাঙ্গাইলে আব্দুল মান্নান (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকার এসডিএস ফার্মের পতিত জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত আব্দুল মান্নান টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ভোরে মাদক ও মাদক বিক্রির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার সময় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এসময় মান্নান নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’নিহত মান্নান এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আট কপাট এলাকায় ওল্টু (৩২) নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওল্টু আলমডাঙ্গা সদর উপজেলা শহরের রেলস্টেশনপাড়ার মহসিন আলীর ছেলে। তিনি প্রায় দেড় ডজন মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে উপজেলার আট কপাটের কাছে এলাকাবাসী একটি গুলিবিদ্ধ লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহত ওল্টুর বাবা মহসিন আলী জানান, ‘ওল্টু সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। সকালে এলাকাবাসীর মুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করি।’

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ মো. ফকরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘নিহত ওল্টু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানাসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে। মাদকের একাধিক মামলাও রয়েছে এর মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধের জের ধরে এ ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন